kalerkantho


ওটিসিতে মূল বাজারের মতোই লেনদেন হবে

রফিকুল ইসলাম   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ওটিসিতে মূল বাজারের মতোই লেনদেন হবে

কম্পানি ও শেয়ারের জোগান থাকলেও চাহিদা না থাকায় প্রায় ‘অচল’ পুঁজিবাজারের বিকল্প লেনদেনব্যবস্থা ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট। এই বাজারে ৬৬ কম্পানি থাকলেও দিনে মাত্র একটি থেকে দুটি কম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। অচল থাকা ওটিসি মার্কেটকে সচল বা ভাইব্রান্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, এর আগেও ওটিসিকে সচল করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে ওটিসি মার্কেটের সচলের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে সুফল আসবে।

ডিএসইর প্রস্তাব অনুযায়ী, ওটিসি মার্কেট পরিচালনায় পৃথক বোর্ড গঠন করা হবে। এই বোর্ডের অধীনেই মূল মার্কেটের মতোই সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। ওটিসিতে শেয়ারের জোগান থাকলেও বর্তমানে বিনিয়োগকারীর ইচ্ছা হলে শেয়ার লেনদেন করতে পারে না। ডিএসইর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মূল মার্কেটের মতোই ওটিসি মার্কেটে নিয়মিত শেয়ার লেনদেন করার সুযোগ থাকবে। এতে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ওটিসিতে লেনদেন করতে পারবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই অলস পড়ে থাকা ওটিসি মার্কেটের উন্নয়নে কমিশনে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব গৃহীত হলে মূল মার্কেটের মতোই এখানে পৃথক লেনদেন হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারী এখন ইচ্ছামতো (মন চাইলে কেনে) শেয়ার লেনদেন করলেও তখন নিয়মিতভাবেই লেনদেন হবে। নতুন উদ্যোমে ওটিসি মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে।

পুঁজিবাজারে ওটিসি মার্কেট হচ্ছে, মূল মার্কেটের বাইরে তালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ার লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা। কম্পানির ক্রমাগত লোকসান, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থতা, লভ্যাংশ দিতে না পারা, তালিকাভুক্তি অ-নবায়ন ও কাগুজে শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তরিত বা ডিম্যাট করতে না পারায় মূল তালিকাচ্যুত করে ওটিসিতে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর এই মার্কেট চালু হয়।

ডিএসই সূত্র জানায়, ওটিসি মার্কেটকে সচল করতে ডিএসইর পক্ষ থেকে এর আগেও কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোনোটিই ফলপ্রসূ হয়নি। ২০১০ সালে বড় ধসের পর পুঁজিবাজারে নতুন করে সাজানো হয়। তবে ওটিসি মার্কেটের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ওটিসিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করে ডিএসই। বিদ্যমান কম্পানিগুলো ছাড়াও নতুন কম্পানি যুক্ত করে গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মূল বাজারের মতো সহজে শেয়ার কেনাবেচা ও পৃথক বোর্ড ও আলাদা বোর্ডে কেনাবেচার আদেশ দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ ছাড়া ছোট মূলধনী কম্পানি নিয়ে আলাদা বাজার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

মাজেদুর রহমান আরো বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নের নানামুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানামুখী উদ্যোগে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করেছে পুঁজিবাজার। ওটিসি চালু হলে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কম্পানিগুলো সচল হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবে।

তিনি বলেন, ‘যেসব কম্পানির অস্তিত্ব নেই, সেই বিষয়ে কী বলব? সেই কম্পানির বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তবে যেসব কম্পানি লোকসানে রয়েছে, সেসব অন্য কম্পানির সঙ্গে মার্জার কিংবা একীভূত হতে পারে। আমরা যেকোনো মূল্যেই চাই, ওটিসি মার্কেটকে সচল করতে। ’

সূত্র জানায়, ওটিসি মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা আটকে আছে। কম্পানির শেয়ার থাকলেও লেনদেন হয় না। কারণ মূল মার্কেটের বাইরে ওটিসির লেনদেন প্রক্রিয়া সময়ব্যাপী। মূল মার্কেটে শেয়ার ক্রয়ের তিন কার্যদিবস পরে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু ওটিসিতে শেয়ার বিক্রিতে কয়েক দিন সময় লাগে। প্রথমত, বিক্রেতা স্টক ডিলার/স্টক ব্রোকার সিকিউরিটিজের নাম, সংখ্যা, মূল্য, সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ও বৈধতা সময় উল্লেখ করে একটি বিক্রয়াদেশ ঘোষণা করবে। এই বিক্রয়াদেশ সব ক্রেতার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। শেয়ার কিনতে আগ্রহীরা বিক্রয়াদেশের নিবন্ধন পরীক্ষা করে পছন্দানুযায়ী সিকিউরিটিজ নির্বাচন করে ক্রয়াদেশ দেবে। এই বিক্রয়াদেশ ও ক্রয়াদেশের পর ওটিসির শেয়ার হস্তান্তর হয়। প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় আগ্রহ হারিয়েছে বিনিয়োগকারী।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত ৬৬ কম্পানির শেয়ার রয়েছে ৪১ কোটি ১১ লাখ। বাজার মূলধন ৭৮১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বাজারে তালিকাভুক্ত ১১ কম্পানির শেয়ার আছে, তবে কম্পানির কোনো হদিস নেই। বছরে এক দিনও লেনদেন হয়নি—এমন কম্পানির সংখ্যা ১২টি। এসব কম্পানির অস্তিত্ব রয়েছে, কিন্তু বাজারে কোনো কার্যক্রম নেই।

জানা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্তানুযায়ী ১৪ কম্পানি ডিম্যাট সম্পন্ন করেছে। ৬৬ কম্পানির মধ্যে ২১ কম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও পি/ই ধনাত্মক। অন্য কম্পানিগুলোর ইপিএস ও পিই ঋণাত্মক বা ক্ষতিতে রয়েছে।


মন্তব্য