kalerkantho


বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াচ্ছে আমদানি ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াচ্ছে আমদানি ব্যয়

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্যে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫১ কোটি ডলার। এই ঘাটতি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ২৫ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ করা বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য সারণির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দুই হাজার ৯২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮.১৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ এক হাজার ৬৪১ কোটি ডলার আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪.৩৩ শতাংশ বেশি। এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সামগ্রিক পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৪৫১ কোটি ডলার বা ৪.১৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৩৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর পুরো অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬২৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তার আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৬৯৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৩৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে তা বেড়ে ১৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার হয়েছে। মূলত বীমা, ভ্রমণ, শিক্ষা ও বিদেশে চিকিৎসা-সংক্রান্ত আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য পরিমাপ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশ মোট ১৫০ কোটি ২০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.১৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিট এফডিআই এসেছে ৮৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এসেছিল ৭৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে নিট এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে ১০.৫ শতাংশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট যে এফডিআই আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে তাকেই নিট এফডিআই বলা হয়। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

অথচ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষ করেছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দেয়।

অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত বলেছেন, ‘জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য খাতে আমদানি ব্যয় বাড়ায় লেনদেন ভারসাম্যে এই ঘাটতি দেখা গেলেও এখনই বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। বেশ কিছুদিন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম ছিল। এ খাতে আমাদের খরচও কম হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। ’

তা ছাড়া পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ চলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি। চাল ও গম আমদানিতেও খরচ বাড়ছে। এসব কারণেই লেনদেন ভারসাম্যে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত।


মন্তব্য