kalerkantho


প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে ওভেন খাত

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে ওভেন খাত

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩০ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এ রপ্তানির সিংহভাগই আবার পূরণ করা হবে ওভেন খাত থেকে। চলতি অর্থবছরে ওভেন খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট জাতীয় রপ্তানির ৪৩ শতাংশ। কিন্তু সেই ওভেন খাতই এবার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে না।

এই অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.৪ শতাংশ কম হয়েছে। যার প্রভাবে জাতীয় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪.৪৩ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছে। ফলে গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার তৈরি পোশাকশিল্পের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কিত ব্যবসায়ী নেতারা। মূলত, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নিট কারখানার তুলনায় সম্প্রসারণ কম হওয়ায় ওভেন খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নিটিং খাতের জন্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫৮ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র .০২ শতাংশ বেশি।

তবে নিটিং খাত কোনো মতে উতরে গেলেও ব্যর্থ হয়েছে ওভেন খাত। জুলাই ২০১৬ থেকে জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত ওভেনের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৯ দশমিক ২১৯ বিলিয়নের বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৮ দশমিক ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কম। যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৩৭ শতাংশ বেশি।

২০১১-১২ অর্থবছর থেকে টানা পাঁচ বছর দেশের রপ্তানির শীর্ষে থাকা ওভেন খাতের হঠাৎ করে প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদেশি ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সুপারিশকৃত কমপ্লায়েন্স ব্যয় মেটাতে না পেরে গত দুই বছরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর বড় অংশই ওভেননির্ভর। বড় কিছু গ্রুপ ব্যবসা সম্প্রসারণ করলেও ছোটরা ব্যাংকঋণ এবং আর্থিক সংকটে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে বাস্তবতা উপলব্ধি না করে অন্য খাতের মতো ওভেন খাতেও গড়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আরোপ এ খাতটির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী জুন নাগাদ ওভেন খাতের আরো অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানান বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও ইনডিপেনডেন্ট অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তৈয়ব। কারণ হিসেবে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, অ্যাকর্ড ও এলাইয়েন্সের কমপ্লাইয়েন্স ইস্যুতে নিটিংয়ের তুলনায় ওভেন খাত অনেকটা পিছিয়ে আছে। কমপ্লায়েন্সের খরচ জোগাতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কমপ্লায়েন্সে টিকতে না পেরে আগামী জুনের মধ্যে আরো কিছু ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণ না করায় অনেক কারখানায় বায়াররা কার্যাদেশ দিচ্ছে না। এসবের প্রভাব পড়ছে ওভেন খাতের রপ্তানিতে।

বিজিএমইএর আরেক প্রথম সহসভাপতি ও ইস্টার্ন অ্যাপারেলস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত পাঁচ বছরে নিট খাত যেভাবে সম্প্র্রসারিত হয়েছে, ওভেন সেভাবে এগোয়নি। কম দামের পণ্য হওয়ায় নিট খাতের উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে। তা ছাড়া নিট পণ্যের কাঁচামালের ৯৯ শতাংশ এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ওভেন খাতের ৭০ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ওভেন প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার এটাও একটা কারণ।

দেশের অন্যতম শীর্ষ কমপ্লায়েন্স সাপোর্ট প্রতিষ্ঠান গার্ড টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রশিদুজ্জামান মিঠু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুরুতে কারখানার মালিকরা কমপ্লায়েন্স বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। এমন অনেক মালিক আছেন যতক্ষণ পর্যন্ত কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে তাঁদের কার্যাদেশ বাতিল হয়নি, ততক্ষণ টনক নড়েনি। আবার এমনও দেখেছি, কমপ্লায়েন্সের ব্যয় মেটাতে না পেরে একাধিকবার কারখানার হাতবদল হয়েছে। তবে কমপ্লায়েন্স করার ক্ষেত্রে অন্য কারখানার তুলনায় সোয়েটার কারখানাগুলো এগিয়ে আছে। ’


মন্তব্য