kalerkantho


৬৩ শতাংশ যাত্রী আন্তর্জাতিক রুটে

চট্টগ্রামে ১২ লাখ বিমান যাত্রী এক বছরে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামে ১২ লাখ বিমান যাত্রী এক বছরে

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ২০১৬ সালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সাড়ে ১২ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। তিনটি বিদেশি ও চারটি দেশি এয়ারলাইনস আন্তর্জাতিক রুটে এবং চারটি দেশি এয়ারলাইনস অভ্যন্তরীণ রুটে এই বিপুল যাত্রী পরিবহন করেছে।

আর ২০১৬ সালে মোট যাত্রীর সাড়ে ৬৩ শতাংশ ছিল আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী, বাকিটা অভ্যন্তরীণ অর্থাৎ চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে। এর আগের বছর ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে যাত্রী পরিবহনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। গত বছর তিনটি এয়ারলাইনস অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে, এর পরও এত বেশি প্রবৃদ্ধি হলো।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি কয়েকটি এয়ারলাইনস নিজেদের সমস্যার কারণে কার্যক্রম বন্ধ করলেও সেই স্থান পূরণ করেছে দেশীয় এয়ারলাইনস। আন্তর্জাতিক নতুন রুট বাড়ায় যাত্রী প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ’

রিয়াজুল কবীর আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাত্রী সবচেয়ে বেশি। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বাড়ায় সেসব রুটে যাত্রী প্রবৃদ্ধি এবার নতুন রেকর্ড হবে। আর চিকিৎসা এবং ভ্রমণের হার বাড়ায় বিদেশি কয়েকটি এয়ারলাইনস নতুন করে কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মাত্র একটি অভ্যন্তরীণ চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন হয়।

২০১৬ সালে এই রুটে যাত্রী পরিবহন হয়েছে চার লাখ ৫৭ হাজার জন। দেশের সবচেয়ে বেশি যাত্রী চলাচল করে এই রুটে। বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও রিজেন্ট এয়ার এই রুটে চলাচল করছে। এই রুটে সবচেয়ে বেশি দিনে ছয়টি ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। জানতে চাইলে সংস্থাটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মূল শহর থেকে বিমানবন্দরে যেতে বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী প্রবৃদ্ধি আরো বেশি না হওয়ার অন্যতম কারণ। যাত্রীদের চাহিদা থাকায় এখন দুপুরের সময়ও ফ্লাইট চালানো হচ্ছে। এই চাহিদা ক্রমাগতই বাড়ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী পরিবহন করছে বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও ইউএস-বাংলা। আর যাত্রীবাহী বিদেশি এয়ারলাইনসের মধ্যে আছে ওমান এয়ার, ফ্লাই দুবাই ও এয়ার এরাবিয়া। আন্তর্জাতিক রুটে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা, ব্যাংকক, মাসকাট, সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবি রুটে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে রিজেন্ট এয়ার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান দিয়ে কলকাতা, ব্যাংকক ও মাসকাট রুটে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে। আন্তর্জাতিক রুটে বড় অংশের যাত্রী রিজেন্ট পরিবহন করছে। শিগগিরই চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হচ্ছে আরো নতুন রুট।

রিজেন্ট এয়ারের হেড অব মার্কেটিং আনিসুল আলম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়ন, জনশক্তি রপ্তানিসহ নানা কারণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই বিষয় মাথায় রেখে আমরা শতভাগই চট্টগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা সাজাই। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আমরা একটি হাব করতে চাই। ’

আগামী মার্চ থেকে নতুন রুট কাতারের রাজধানী দোহা ও সৌদি আরবের দাম্মাম ফ্লাইটেও চট্টগ্রাম থেকে কানেক্ট করা হবে জানিয়ে আনিসুল আলম চৌধুরী আরো বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকেও সেভাবে উপযোগী হতে হবে, সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে বিমানবন্দর দিয়ে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭০ হাজার জন। ২০১৪ সালে ছিল ১০ লাখ ৬৫ হাজার জন। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার জন, শতাংশের হিসাবে যা সাড়ে ৬ শতাংশ।

হিসাব কষে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে মোট যাত্রীর সাড়ে ৬৩ শতাংশ ছিল আন্তর্জাতিক রুটের। বাকি ৩৬ শতাংশ ছিল অভ্যন্তরীণ রুটের। এই রুটের মধ্যে এখানে চালু আছে মাত্র একটি। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীসংখ্যা ছিল সাড়ে ৬২ শতাংশ, আর বাকিটা অভ্যন্তরীণ রুটের।

প্রথম থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে যাত্রী পরিবহন করছে ওমান এয়ার। সংস্থাটির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ খোন্দকার কবির আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট নেই, নেই ভিআইপি লাউঞ্জ। ফলে আমাদের বিজনেস শ্রেণির যাত্রী থাকলেও তাদের সেই মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর বিভিন্ন কারণে ফ্লাইট দেরি হলে কোনো ক্যাটারিং সার্ভিস (খাবার সরবরাহকারী) না থাকায় অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। ’

খোন্দকার কবির আহমদ আরো বলেন, বিমানবন্দরে যে হারে আন্তর্জাতিক যাত্রী বাড়ছে সে অনুযায়ী বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা উন্নত করা, বিমান থেকে যাত্রী নামাতে বোর্ডিং ব্রিজ সংখ্যা বাড়ানো দরকার।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে মোট জনশক্তি রপ্তানির ৫২ শতাংশ গেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে। ২০১৬ সালে সেটি ছিল ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া আরেক বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়া উন্মুক্ত হওয়ায় বছর শেষে কর্মী রপ্তানিতে বড় অগ্রগতি হবে। এই দুটি দেশের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের যাত্রী। ফলে বছর শেষে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন অতীতের রেকর্ড ভাঙবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।


মন্তব্য