kalerkantho


ব্যাংকের শেয়ারের পালে হাওয়া

রফিকুল ইসলাম   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যাংকের শেয়ারের পালে হাওয়া

১৭ কার্যদিবস পর ডিএসই সূচক ৫৬০০ পয়েন্টে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মৌল ভিত্তির ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে। যদিও কয়েক দিন ধরেই কমছিল এই খাতের শেয়ারের দাম।

রবিবার ব্যাংক খাতের ৮০ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়। তবে সোমবার আবারও ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে। শেয়ার হাতবদলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও। এক দিনেই এই খাতের লেনদেন প্রায় ৪.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার সঙ্গে কমেছে লেনদেনও।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক চাঙ্গাভাবে তলানিতে থাকা ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে। কোনো কম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, আবার ফেস ভ্যালুর নিচে থাকা কম্পানির শেয়ারের দামও এখন ওপরে উঠেছে। বাজার ঊর্ধ্বমুখিতা ও নিম্নমুখিতার সঙ্গে শেয়ারের দামেরও সংশোধন হচ্ছে।

এদিকে ১৭ কার্যদিবস পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫৬০০ পয়েন্ট পার হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। ওই সময় সূচক ও লেনদেন ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখিতার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষদিক থেকে অব্যাহতভাবে আবারও নিম্নমুখী হয় বাজার। মুদ্রানীতি ঘোষণার দিন থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে বাজার। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৬০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সূচক হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ১৭ কার্যদিবস পর আবারও ৫৬০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজার ওঠানামা স্বাভাবিক ঘটনা। গত কয়েক বছরের মধ্যে সম্প্রতি ব্যাংকের শেয়ারের দাম শীর্ষে উঠেছে। কোনো ব্যাংকের ১২ টাকার শেয়ার ২২ টাকায় উঠেছে। এ ক্ষেত্রে শেয়ারের চাহিদা ও জোগান হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে দামেও প্রভাব বিস্তার করে। যেদিন জোগান বেশি কিন্তু চাহিদা কম সেদিন দাম কমে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের শেয়ারের দাম সংশোধন হচ্ছে। ’

এদিকে আইডিএলসির পর্যালেচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ কার্যদিবস পর ডিএসইর সূচক ৫৬০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। যদিও ১৩০টি কম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ও ৯৯টি কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বড় ও মাঝারি কম্পানির লেনদেন বাজারকে ঊর্ধ্বমুখিতায় নিয়েছে। বড় মূলধনী কম্পানির লেনদেন বেড়েছে ০.৩ শতাংশ আর মাঝারি কম্পানির বেড়েছে ০.৪ শতাংশ। যদিও ছোট মূলধনী কম্পানির লেনদেন কমেছে। ব্যাংকিং খাতে বেড়েছে ১.৯ শতাংশ, অন্যদিকে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ভূমিকা খুবই খারাপ। এই খাতে প্রায় ১ শতাংশ লেনদেন কমেছে। ওষুধ ও রসায়ন এবং প্রকৌশল দুই বৃহৎ খাত লেনদেনে শীর্ষে রয়েছে। ওষুধ খাতে লেনদেন হয়েছে ১৫.৪ শতাংশ ও প্রকৌশল খাতে ১৫.২ শতাংশ।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। কমেছে তিনটির আর তিনটির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টির দাম কমেছে। বেড়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের আর অপরিবর্তিত আছে দুই কম্পানির শেয়ারের দাম। প্রকৌশল খাতের ৩৩টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১০টি, কমেছে ২২টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে একটি কম্পানির শেয়ারের দাম।

খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন হয়েছিল ১৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যা মোট লেনদেনের ১৫.৪৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লেনদেন হয়েছে ১৯৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ১৫.৪১ শতাংশ। আগের দিন ছিল ১৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।  

ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৬০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা ১২.৪২ শতাংশ। আগের দিন এই লেনদেন ছিল ১০০ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ৮.২ শতাংশ। সেই হিসাবে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ৪.৩২ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন হয়েছে ১১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা বা ৯.২৪ শতাংশ। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৩৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ২২ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৩২ কোটি ৯০ লাখ টাকা আর মূল্যসূচক কমেছিল ৭ পয়েন্ট। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৬৫ কোটি তিন লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৩৩০টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১১৫টি, কমেছে ১৬৪টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টি কম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬০৪ পয়েন্ট।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে সেন্ট্রাল ফার্মা। এই কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাপোলো ইস্পাতের লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আর তৃতীয় স্থানে থাকা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অন্য শীর্ষ কম্পানিগুলো হচ্ছে আমান ফিড, এএফসি অ্যাগ্রো, সিএমসি কামাল, অ্যাকটিভ ফাইন, ডেসকো, ডরিন পাওয়ার ও জিবিবি পাওয়ার।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মূল্যসূচক বেড়েছে ৪২ পয়েন্ট। সূচক বাড়লেও আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৬২টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১০৩টি, কমেছে ১৩১টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টি কম্পানির শেয়ারের দাম।


মন্তব্য