kalerkantho


ওয়ান স্টপ সেবা আইন আগামী সংসদ অধিবেশনে আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ওয়ান স্টপ সেবা আইন আগামী সংসদ অধিবেশনে আসছে

বিশ্বব্যাংকের বাণিজ্য সহজীকরণ সূচকে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ সামনের সারিতে থাকতে চায়। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বিআইডিএ।  

গতকাল রবিবার ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত সভায় আমিনুল ইসলাম এ কথা বলেন। ‘চীন-বাংলাদেশ বিজনেস মিটিং’ শীর্ষক সভাটি চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করে এফবিসিসিআই। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইডিএ নির্বাহী চেয়ারম্যান।

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং, বিআইডিএ নির্বাহী সদস্য ড. এমদাদুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, চীনের প্রতিনিধিদলের প্রধান কাউন্সিল ফর প্রমোটিং সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন (সিপিএসএসসি) চেয়ারম্যান লিউ জিন হুয়া প্রমুখ।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ওয়ান স্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট করা হচ্ছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইনটি উত্থাপন করা হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন আমরা তা গ্রহণ করব। ’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কোনো স্বার্থগত দ্বন্দ্ব নেই।

চীন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরকালে যে চুক্তিগুলো হয়েছে তার সব বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে। আর এবার বাংলাদেশে আসা এ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলটি বেশ শক্তিশালী। আমার বিশ্বাস, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকালে করা চুক্তি এবার বাস্তবায়িত হবে। ’

মা মিংকিয়াং বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন হচ্ছে। চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এই সম্পর্ক দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কৌশলগত সম্পর্ক। এ ছাড়া চীনের প্রেসিডেন্টের গত ছয় বছরে দুবার বাংলাদেশ সফরে আসা প্রমাণ করে বাংলাদেশের ব্যাপারে চীন কতটা আগ্রহী। চীনা রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিম্নমুখী হলেও চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকালে ২৮টি চুক্তি হয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। ’ তাঁর আশা, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। একই সঙ্গে চীন তার অর্থনীতিতে ডাবল ডিজিটে জিডিপি অর্জন করবে। এ বছর চীনের জিডিপির  প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৬.৭ শতাংশ।  

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে সফররত চীনা ব্যবসায়ীদলের প্রধান লিউ জিনহুয়া বলেছেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এশিয়ার মধ্যে সব থেকে ভালো। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নে আমরা সহযোগী হতে চাই। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ তুলে না নিয়ে একটি অংশ শিল্প উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে চাই। ’ তিনি জানান, চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের রেলওয়ে, বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিকস, মেশিনারিজ, পেট্রোকেমিক্যাল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, চীনের যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এবার সফরে এসেছে, এরাই মূলত দেশটির নীতিনির্ধারক। প্রতিনিধিদলের প্রধান লিউ জিনহুয়া চীনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা বাংলাদেশকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। চীনের অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।


মন্তব্য