kalerkantho


পুঁজিবাজারে বেড়েছে লেনদেন, শীর্ষে প্রকৌশল খাত

৮০ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমল

রফিকুল ইসলাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৮০ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমল

পুঁজিবাজারের লেনদেন ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হলেও বাজারের মৌল ভিত্তির ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম কমছেই। তলানিতে থাকা অন্য কম্পানির শেয়ার দাম বাড়লেও কমেছে ব্যাংকের শেয়ারের দাম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাজারে শেয়ারের দাম বেড়েছিল। তবে আবারও কমছে ব্যাংকের শেয়ারের দাম। গতকাল রবিবার তালিকাভুক্ত ৮০ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ছাড়িয়ে গেছে ব্যাংকের লেনদেনকে। মোট লেনদেনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অবদান ১৩.৯৮ শতাংশ হলেও ব্যাংকের লেনদেন ৮.২২ শতাংশ। ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির শেয়ারের দাম কমেছে। আর তিনটির শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে আরো তিনটি ব্যাংকের লেনদেন অপরিবর্তিত রয়েছে।

গতকাল বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও বেড়েছে লেনদেন। মূল্যসূচকে সামান্য সংশোধন হলেও সার্বিক লেনদেন বেড়েছে। টানা কয়েক দিন লেনদেন ও সূচক ক্রমাগত বৃদ্ধির পর এক দিন সামান্য সংশোধনের পর আগের দিন লেনদেন ও সূচক বেড়েছিল। এদিকে খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে এসেছে প্রকৌশল খাত। আর লেনদেন বৃদ্ধিতে শীর্ষে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। এদিন এই খাতে লেনদেন বেড়েছে ৫.৫৯ শতাংশ।

আইডিএলসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেনদেন আগের চেয়ে ৭.৭ পয়েন্ট সূচক কমেছে। এতে লেনদেন বেড়েছে ১৬ শতাংশ। মোট লেনদেনে প্রকৌশল খাতের অবদান সর্বোচ্চ ১৬.৪ শতাংশ। তবে ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ ১.১ শতাংশ পতন হয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৩২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক কমেছে ৭ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৬২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছিল ১০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ১৬.০১ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা থাকলেও পরবর্তী সময়ে কমেছে। এতে সূচক কমার মধ্য দিয়েই বাজার শেষ হয়েছে। তবে লেনদেন আগের চেয়ে বেড়েছে। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৮৩ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ৩৩০টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১৩১টি বা ৩৯.৭০ শতাংশ, কমেছে ১৬২টি বা ৪৯.০৯ শতাংশ আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি বা ১১.২১ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকৌশল খাতের লেনদেন হয়েছে ১৬৪ কোটি ২১ লাখ টাকা বা ১৫.৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ১.২৯ শতাংশ। সেদিন লেনদেন হয়েছিল ১৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লেনদেন হয়েছে ১৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ১৪.৩৯ শতাংশ। সেই হিসাবে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ১.৭৫ শতাংশ।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন হয়েছে ১৪৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন হয়েছিল আট কোটি আট লাখ টাকা। সেই হিসাবে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ৫.৫৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে এই খাতের অবদান ১৩.৯৮ শতাংশ। তবে ব্যাংক খাতের কম্পানির শেয়ারের দাম কমেই চলেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা আগের দিন ছিল ৯৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে ০.৮৯ শতাংশ। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে বারাকা পাওয়ার। এই কম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা ইফাদ অটোসের লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। অন্য শীর্ষ কম্পানিগুলো হলো—সিএমসি কামাল, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, সিঙ্গার বাংলাদেশ, অ্যাপোলো ইস্পাত, ফরচুন শুজ ও ডরিন পাওয়ার জেনারেশন।

আরেক বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আর মূল্যসূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৯৭ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ২৫৬টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১২০টি, কমেছে ১০৭টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টি কম্পানির শেয়ারের দাম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল ২৪ পয়েন্ট।


মন্তব্য