kalerkantho


সিআইপি কার্ড পেলেন ৫৬ শিল্পোদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিআইপি কার্ড পেলেন ৫৬ শিল্পোদ্যোক্তা

হোটেল পূর্বাণীতে গতকাল শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর কাছ থেকে ২০১৫ সালের জন্য সিআইপি (শিল্প) কার্ড গ্রহণ করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী।

বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫৬ জনের মধ্যে ‘বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি (শিল্প)-২০১৫ কার্ড’ বিতরণ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্ড বিতরণ করেন।

এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এসআরও জারি করে ৫৮ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।

এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে সিআইপি (শিল্প) কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ  দাস, সিআইপি (শিল্প) কার্ডপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা রূপালী হক চৌধুরী ও মো. আবদুর রাজ্জাক বক্তব্য দেন।

এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিএফএ) সভাপতি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে একই ব্যক্তি তপন চৌধুরী দুবার সিআইপি হিসেবে গণ্য হলেও একই ব্যক্তি হওয়ায় গতকাল তাঁকে একটি কার্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে ফুডবেড ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অনিরুদ্ধ কুমার রায় সিআইপি হিসেবে মনোনীত হলেও সম্প্রতি তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করেন। এতে তাঁকে সিআইপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।   

২০১৫ সালের জন্য পাঁচ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ৪৯ জন এবং পদাধিকার বলে সাতজন শিল্পোদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠান সিআইপি (শিল্প) পরিচয়পত্র পেয়েছেন। এদের বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে ২৫ জন, মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে ১৫ জন, ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে পাঁচজন, মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে দুজন, কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে দুজন রয়েছেন।

সিআইপি (শিল্প) পরিচয়পত্রধারীদের অনুকূলে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আজ থেকে আগামী এক বছরের জন্য বহাল থাকবে।

এটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র হিসেবে গণ্য হবে। কার্ডধারীরা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। তাঁদের ব্যবসাসংক্রান্ত ভ্রমণের সময় বিমান, রেলপথ, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার থাকবে। ব্যবসার কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসাপ্রাপ্তির জন্য তাঁদের অনুকূলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে ‘লেটার অব ইন্ট্রুডাকশন’ দেওয়া হবে। তাঁদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের কেবিন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকবে। কার্ডধারীরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধাও পাবেন।

অনুষ্ঠানে আমির হোসেন আমু বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন কার্যক্রম জোরদারের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। টেকসই বেসরকারি খাতের বিকাশে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ প্রণয়নের পাশাপাশি শিল্প প্লট বরাদ্দ নীতিমালা-২০১০, লবণনীতি-২০১১, রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান নির্দেশনাবলি-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আলোকে ন্যাশনাল প্রডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ও রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, পরিবেশদূষণ থেকে রাজধানীবাসীকে সুরক্ষায় সরকার সাভারে আধুনিক চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তুলছে। এ মাসের মধ্যেই হাজারীবাগ থেকে সব কাঁচা চামড়া কারখানা সরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিসিকের মাধ্যমে রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

যারা সিআইপি কার্ড পেলেন: ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান পদাধিকারবলে সিআইপি হয়েছেন।

একই ক্যাটাগরিতে সিআইপি হয়েছেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সেলিমা আহমাদ, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিএফএ) সভাপতি ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চৌধুরী।

বৃহৎ শিল্প খাত: ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম, ইসলাম রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের এমডি মো. আজহারুল ইসলাম, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মোবারক আলী, এসিআই লিমিটেডের এমডি আরিফ দৌলা, কামাল ইয়ার্নের পরিচালক কামাল উদ্দিন আহমেদ বৃহৎ শিল্প খাতে সিআইপি হয়েছেন।

একই ক্যাটাগরিতে সিআইপি কার্ড পেয়েছেন সুপার রিফাইনারির এমডি সেলিম আহমেদ, বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাকের এমডি ফিরোজ আলম, বাদশা টেক্সটাইলের এমডি মো. বাদশা মিয়া, বিআরবি  কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. পারভেজ রহমান, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের এমডি আমের আলী হোসাইন, আবদুল মোনেম লিমিটেডের এমডি আবদুল মোনেম এবং ইউনিভার্সাল জিন্সের এমডি মো. নাছির উদ্দিন।

এ ছাড়া পাহাড়তলী টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি মিলসের এমডি মির্জা সালমান ইস্পাহানি, প্যাসিফিক জিন্সের মনোনীত মালিক পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, শোর টু শোর (বাংলাদেশ) লিমিটেডের এমডি হাজি ইউনুছ আহমদ, এসিআই ফরমুলেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের এমডি অঞ্জন চৌধুরী, কসমোপলিটন ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানভীর আহমেদ, এনভয় টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড  মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেডের এমডি মো. আবদুর রাজ্জাক বৃহৎ শিল্প খাতে সিআইপি হয়েছেন।

বৃহৎ শিল্প (সেবা) খাত: এসটিএস হোল্ডিংসের এমডি খন্দকার মনির উদ্দীন, জিএমই অ্যাগ্রো লিমিটেডের এমডি চৌধুরী হাসান মাহমুদ, মীর আকতার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মাহবুবা নাসির, শেলেটকের এমডি তৌফিক এম সেরাজ এবং নাভানা রিয়েল এস্টেটের ভাইস  চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম বৃহৎ শিল্প (সেবা) ক্যাটাগরিতে সিআইপি কার্ড পান।

মাঝারি শিল্প (উৎপাদন) খাত: আরএফএল প্লাস্টিকসের এমডি আহসান খান চৌধুরী, অকো-টেক্স লিমিটেডের এমডি আব্দুস সোবহান, ফু-ওয়াং ফুডসের এমডি আরিফ আহমেদ চৌধুরী, বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশনের এমডি জেড এম গোলাম নবী এবং মেসার্স জজ ভূঞা টেক্সটাইল মিলসের স্বত্বাধিকারী  মোহাম্মদ ফায়জুর রহমান ভূঞা সিআইপি কার্ড পান।

মেসার্স সিটাডেল অ্যাপারেলসের এমডি মো. মাহিদুল ইসলাম খান, কারমো ফোম অ্যান্ড অ্যাডহেসিভ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মফিজুর রহমান, অ্যাকোয়া মিনারেল টারপেন্টাইন অ্যান্ড সলভেন্টস প্লান্ট লিমিটেডের এমডি রামজুল সিরাজ, মোনেম বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের ঈগলু ফুডস লিমিটেডের পরিচালক এ এস এম মঈনউদ্দিন মোনেম, বিআরবি পলিমারের এমডি মো. মজিবর রহমান, জেমিনি সি ফুডস লিমিটেডের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ এবং বেলি ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের এমডি মো. মাসুদ জামানকে সিআইপি কার্ড দিয়েছে সরকার।

মাঝারি শিল্প সেবা খাত: স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান খান মো. আফতাব উদ্দিন, শান্তা প্রপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক জেসমিন সুলতানা এবং কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেডের  চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খান মাঝারি শিল্প সেবা খাতে সিআইপি হয়েছেন।

ক্ষুদ্র শিল্প খাত: রানার ব্রিকস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, অণ্বেষা স্টাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউ এম আশেক, আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের  চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি মো. মিজবার রহমান সিআইপি হয়েছেন এ খাতে।

ক্ষুদ্র শিল্প (সেবা) খাত: ক্ষুদ্র শিল্প (সেবা) খাতে স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এমডি মো. খালিদ  হোসেন খান সিআইপি হয়েছেন।

মাইক্রো শিল্প খাত: টেকনোমিডিয়া লিমিটেডের এমডি যশোদা জীবন দেবনাথ এবং মেসার্স সান পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. লুত্ফুল কবির সিআইপি কার্ড পান।

কুটির শিল্প খাত: কুটির শিল্প খাতে এবি ফ্যাশন মেকারের স্বত্বাধিকারী সানাউল হক বাবুল এবং জননী উইভিং ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম (পরান) সিআইপি হয়েছেন।


মন্তব্য