kalerkantho


প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পর নিজ ভবনে বিএসইসি

রফিকুল ইসলাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পর নিজ ভবনে বিএসইসি

প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পর স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের জীবন বীমা টাউয়ার থেকে আগারগাঁওয়ে নতুন ঠিকানা পেয়েছে এক্সচেঞ্জ কমিশন।

ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের এক মাস পর অফিস সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাহ্যিক কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা সম্পূর্ণ না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে সংস্থাটির সব বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইতিমধ্যে সংস্থার কয়েকটি বিভাগ নতুন ভবনে সরিয়ে আনা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই অন্য সব বিভাগও সরিয়ে নেওয়া হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষা, সিকিউরিটিজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং আইনের সঠিক পরিপালন দেখাশোনা করতে ১৯৯৩ সালের ৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-১৯৯৩-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই কমিশনের নাম ছিল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর আইনে সংশোধন এনে নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন ভবনে স্থানান্তরের আগে দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারের ১৪, ১৫, ১৬ ও ২০ তলাজুড়ে ছিল সংস্থাটির অফিস। বর্তমানে সংস্থাটির কার্যালয় ই-৬সি শেরেবাংলানগরের আগারগাঁওয়ে।

২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের এক মাস পরে মতিঝিল থেকে অফিস সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভবন নির্মাণ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা না হওয়ায় সরতে সময় লেগেছে বলে জানান কর্মকর্তারা। এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর এই ভবন নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। বিএসইসির নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি নির্মাণে ব্যয় প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। ভবনের নকশা করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং বাস্তবায়ন করেছে বিএসইসি ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন ভবনে অফিস সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অফিস সরিয়ে নেওয়া হবে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনটি ০.৩৩ একর জমির ওপর একতলা বেজমেন্টসহ ১০ তলাবিশিষ্ট। আয়তন এক লাখ বর্গফুট। বিজয় সরণি দিয়ে সংসদ ভবন পার হয়ে আগারগাঁও মোড় থেকে বাম পাশে গেলেই রাস্তার পাশে বিএসইসি ভবন। এই ভবনের উত্তর পাশে পাসপোর্ট অফিস। দৃষ্টিনন্দন ১০ তলা ভবনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত অফিসের পাশাপাশি রয়েছে মাল্টিপারপাস হল, ট্রেনিং সেন্টার, ডে-কেয়ার সেন্টার, রুপটপ গার্ডেন, সোলার সিস্টেম, ৩০০ কেভিএ জেনারেটর ও ১২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন।

আগারগাঁও ভবনটি ঘুর দেখা যায়, বাহ্যিক অবয়ব সম্পূর্ণ হলেও ভেতরের সাজসজ্জার কাজ চলছে। ১০ তলা ভবনের দুটি ফ্লোর নিচতলা ও পঞ্চম তলার সাজসজ্জার কাজ শেষ। পঞ্চম তলায় কমিশনের চেয়ারম্যান ও নিচতলা প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) বিভাগ কার্যক্রম শুরু করেছে। সার্ভেইল্যান্স বিভাগও নতুন ভবনে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ফ্লোরের সাজসজ্জার কাজও চলছে। ফ্লোরের সাজসজ্জার কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অফিস সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে আরো দু-একটি বিভাগ নতুন ভবনে আসবে। পর্যায়ক্রমেই চলতি মাসের মধ্যেই কমিশনের সব অফিস নতুন ভবনে নেওয়া হবে।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসইসি নিজস্ব কোনো ভবন পায়নি। দীর্ঘদিন থেকেই মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারে কার্যক্রম চলছিল। আগারগাঁওয়ে সরকারের দেওয়া জমিতে নিজস্ব ভবন নির্মাণে স্থায়ী স্থান হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অফিস সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অফিসিয়াল কাজে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন অফিস সরানোর কাজ চলছে। আগামী মার্চ মাস থেকে পুরোদমে পূর্ণাঙ্গরূপেই কার্যক্রম শুরু করবে সংস্থাটি।

মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারে গিয়ে দেখা গেছে, কমিশনের অফিসে বিদায়ের সুর। প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরানোর প্রক্রিয়া করছে। ফাইলপত্র গোছানো থেকে শুরু করে নেওয়ার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত কমিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী। কাজের ফাঁকে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই এখানে চাকরি করছি। পরিচিত এই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে কষ্টও লাগছে। তবু নিজেদের ভবনে যাওয়ার আনন্দ অন্যরকম। ’


মন্তব্য