kalerkantho


টেলিটকে বিনিয়োগ করতে চায় টাটা টেলিকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



টেলিটকে বিনিয়োগ করতে চায় টাটা টেলিকম

টেলিটক বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে ভারতের টাটা টেলিকম। তবে প্রতিষ্ঠানটি টেলিটকের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে ৫১ শতাংশ মালিকানা চেয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগ না থাকাকে মূল প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছে টাটা টেলিকম। বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানিতে শেয়ার ক্রয়-সংক্রান্ত সীমা বাড়ালে বিনিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করবে ভারতীয় এই টেলিকম প্রতিষ্ঠান।

কলকাতার নবটেল হোটেলে সম্প্রতি বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের পক্ষে একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয় টাটা টেলিকমের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) চেতন পাঞ্চালের কাছে। প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবটি দেন বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারানা হালিম বাংলাদেশের সরকারি টেলিফোন কম্পানি টেলিটকের সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছেন। যদিও বিনিয়োগকারী টাটা ইচ্ছা করলে টেলিটক ছাড়া অন্য কোনো বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গেও যৌথভাবে ব্যবসা করতে পারে বলে প্রস্তাবে সুযোগ রাখা হয়।

তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার কর্তৃত্ব না পাওয়াকে মূল প্রতিবন্ধক বলে জানান টাটার কর্মকর্তারা। এই শর্ত শিথিল করা হলে টাটা গোষ্ঠী বিনিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল লিমিটেড বা বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনোয়ার হোসেন বলেন, বিনিয়োগের ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে টাটা।

তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা নিয়ে তাদের একটু আপত্তিও আছে। টেলিকম খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিথিল করার বিষয়ে সরকারের শীর্ষমহলে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলেও জানান বিএসসিসিএলের এমডি। তবে এ ব্যাপারে টাটা টেলিকমের জিএম চেতন পাঞ্চালের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী চার দিনের সফরে কলকাতা গিয়েছিলেন। ওই সফরে গিয়ে বাংলাদেশে টেলিকম খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় বিভিন্ন টেলিকম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, টাটাকে বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া ছাড়াও বিএসসিসিএল থেকে ব্যান্ডউইথ কেনারও প্রস্তাব করেন মনোয়ার হোসেন। টাটা ও ভারতীটেল বাংলাদেশে কেবল দিয়ে ছয়টি আইটিসি সংস্থাকে ব্যান্ডইউথ সরবরাহ করত। কিন্তু সম্প্রতি দুটি সংস্থার কেবল কাটা পড়ায় মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বিএসসিসিএলের পক্ষে টাটাকে বলা হয়, ভারতী যেমন তাদের কাছে পাঁচটি ব্যান্ডউইথ নিয়েছে, তেমন টাটাও যেন তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ নিয়ে বাংলাদেশের ইন্টারনেট গ্রাহকদের পরিষেবা নিশ্চিত করে।

এ ব্যাপারে বিএসসিসিএলের এমডি বলেন, বাংলাদেশের ১৩০ জিবি ব্যান্ডইউথ ইন্টার টেরেস্ট্রিরিয়াল কেবলের মাধ্যমে ছয়টি বেসরকারি সংস্থা বিপণন করে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ের ঝড় এবং সিঙ্গাপুর পোর্টে কেবল কাটা পড়ায় শুধু সামিট ছাড়াও বাকি পাঁচটি আইটিসি সংস্থা ব্যান্ডইউথ দিতে পারছে না। তাই তাদের গ্রাহকরা মারাত্মক অসুবিধায় পড়েছে।

ভারতের টাটা এবং ভারতীটেল এই দুটি সংস্থা বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১৩০ ব্যান্ডইউথ বিক্রি করে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৩০০ জিবি। এর মধ্যে সরকারি সংস্থা বিএসসিসিএল সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ১৭০ জিবি ব্যান্ডউইথ সঞ্চালন করতে পারে। বাকি ১৩০ জিবি দেয় বেসরকারি ওই সংস্থাগুলো।


মন্তব্য