kalerkantho


ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে নিম্নমানের চা

ক্ষতির মুখে দেশি কম্পানিগুলো

ফখরে আলম, যশোর   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারত থেকে পাচার হয়ে  আসছে নিম্নমানের চা

চোরাপথে আসা ভারতীয় নিম্নমানের চা পাতা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে এক নারী। ছবিটি যশোর জংশন থেকে তোলা। ছবি : ফিরোজ গাজী

যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে শত শত কেজি চা পাতা ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে। পাচারকৃত নিম্নমানের ভেজাল চায়ের কারণে দেশি কম্পানিগুলো একদিকে বাজার হারাচ্ছে, অন্যদিকে ঘটছে সুনামহানিও।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছে, এই চা পাচার অব্যাহত থাকলে দেশীয় চা শিল্প চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চা পাতা পাচার হয়ে আসে। পাচারকারীরা এই চা বেনাপোল রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে জমা করে রাখে। এখানকার ১০-১২টি ঘরে এই চা বিক্রি করা হয়। ১৬০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দামে সাধারণত মহিলারা এই চা কিনে নিয়ে আসে। জানা যায়, চা পাচারের সঙ্গে যশোর-খুলনার কয়েক শ মহিলা চোরাচালানি জড়িত। একেকজন চোরাচালানি ২০ থেকে ৪০ কেজি চা বস্তায় ভরে পাচার করে আনে। এই চা যশোরের বড় বাজার ও খুলনার বড় বাজারে তারা বিক্রি করে। তাতে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভ হয়।

চা ব্যবসায়ীরা ভারতীয় এই চায়ের সঙ্গে দেশি চা মিশিয়ে একেক ধরনের নাম দিয়ে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে। সাধারণত মহিলারা ট্রেন ও বাসযোগে চা পাচার করে আনে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে চোরাচালানের রাঘববোয়ালরা সীমান্ত এলাকা থেকে ট্রাকযোগে মণে মণে চা পাচার করে আনে। অতীতে বর্ডার গার্ড কর্তৃপক্ষ এমন কয়েকটি চালান আটক করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, যশোর থেকে এই চা নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুরসহ আরো কয়েকটি জেলায় পাচার হয়ে যায়।

ইস্পাহানি লিমিটেডের টেরিটরি ম্যানেজার শেখ আশরাফ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভারতের নিম্নমানের চায়ের কারণে আমাদের চা বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। কেননা আমাদের চায়ের কেজি ৩২৫ টাকা। আর ভারতীয় চা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ’ একই কম্পানির টেরিটরি অফিসার ইকবাল আল বক্কার বলেন, ‘ভারতের চা পাচার হয়ে আসার কারণে দেশীয় কম্পানির চা বিক্রি ৩০ শতাংশ কমে গেছে। আর দেশীয় চায়ের সঙ্গে ভেজাল দেওয়ার কারণে আমাদের চায়ের সুনামও নষ্ট হচ্ছে। খোলা চা বাজার এখন চোরাচালানকৃত চায়ের দখলে চলে গেছে। ’

চা পাচার নিয়ে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার শাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছে। আয়ের কোনো পথ নেই। এ জন্য বেনাপোল সীমান্ত থেকে আমি চা পাচার করে আনি। তাতে আমার প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। ’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যশোর বর্ডার গার্ডের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে যে চা পাচার হয়ে আসে তা খুবই নিম্নমানের। সাধারণত মহিলারা এই চা পাচার করে আনে। আমরা শত শত কেজি চা জব্দ করেছি। তবে এখন চা পাচার কমে গেছে। ’


মন্তব্য