kalerkantho


পাঁচতারা হোটেল নির্মাণে ভাটা চট্টগ্রামে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাঁচতারা হোটেল নির্মাণে ভাটা চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামে প্রথম ও একমাত্র পাঁচতারা হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু কার্যক্রম শুরু করেছে গত বছরের মার্চে। এর আগে-পরে অন্তত ছয়টি আন্তর্জাতিকমানের পাঁচতারা (ফাইভ স্টার) হোটেল চট্টগ্রামে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনোটিই পূর্ণতা পায়নি। এর মধ্যে কোনোটি জমি অধিগ্রহণ করেনি, কোনোটির নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ হয়েছে, আবার কোনোটি শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নির্মাণকাজই শুরু করতে পারেনি।

পাঁচতারা হোটেলগুলোর মধ্যে চারটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক চেইন হোটেলগুলোর শাখা এবং দুটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। ফলে সেগুলো ঠিক কখন চালু হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। উদ্যোক্তারা আশা করছে, চট্টগ্রামে যে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে সেগুলো সঠিকভাবে কাজ চললে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ২৫০ কক্ষের পাঁচতারা ‘জে ডাব্লিউ ম্যারিয়ট’ হোটেলের নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। যুক্তরাষ্ট্রের চেইন হোটেলের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের শুরুতে সেটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি।

এদিকে পেনিনসুলা হোটেল কর্তৃপক্ষ ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগং-এয়ারপোর্ট গার্ডেন’ নামে পতেঙ্গার সমুদ্র সৈকতে একটি পাঁচতারা হোটেল নির্মাণে কার্যক্রম শুরু করে।

বিগত ২০১৪ সালে শেয়ারবাজার থেকে ১৬৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে এবং ২০১৭ সালেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়।

কিন্তু ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শুরুই করেনি। বন্দরের জমি লিজ নিয়ে এই হোটেল নির্মাণের অনুমোদন হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এখনো চুক্তি হয়নি। আর নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট সময়ে শুরু না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

তবে পেনিনসুলার কম্পানি সচিব মোহাম্মদ নূরুল আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হোটেল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ মাটি পরীক্ষা, জরিপগুলো আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি।

ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে নির্মাণের ঘোষণা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ, জমি নির্বাচন ঠিকমতো না হওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। আশা করছি ২০১৯ সালেই হোটেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করতে পারব। ’

গত ২০১৫ সাল থেকে শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ কে খান গ্রুপ নগরের বাটালী হিলে পাঁচতারা হোটেল ‘নিকেতন’-এর নির্মাণকাজ শুরু করে। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক কোটি টাকা জরিমানার পর সেটির কার্যক্রম এখন সীমিত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। আর ইউনিক গ্রুপের সঙ্গে পাঁচতারা হোটেল ‘ওয়েস্টিন’ নির্মাণে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল স্টারউড গ্রুপের। কিন্তু ২০১৬ সালের অক্টোবরে স্টারউড গ্রুপ কিনে নেয় ম্যারিয়ট হোটেলগুলোকে। ফলে চট্টগ্রামে সেই ওয়েস্টিন হোটেল নির্মাণ কতটা এগোবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ম্যারিয়ট হোটেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে একটি হোটেল নির্মাণ করছে।

জানা গেছে, র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রামে যাত্রা শুরুর পর আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল ‘হায়াত রিজেন্সি’ চট্টগ্রামে নির্মিত দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে শাখা স্থাপনের বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু বছর গড়াতেই সেই আগ্রহেও ভাটা পড়েছে। গত এক বছরেও তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়নি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম চেম্বারের।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘র‍্যাডিসন আসার পর চট্টগ্রামে বাজার যাচাই করে দেখেছে হায়াত হোটেল কর্তৃপক্ষ। আগে মন্দা থাকলেও এখন চট্টগ্রাম ঘিরে সরকারের ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশিদের আগমন অনেক বেড়ে গেছে। ফলে পাঁচতারা হোটেলের বাজার ভালোর দিকে যাচ্ছে। ’

মাহবুবুল আলম আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক হায়াত হোটেলের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে তাদের সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি ইতিবাচক কিছু একটা হবে। ’

এসব হোটেলের বাইরে মেরিডিয়ান গ্রুপ নগরের দামপাড়ায় নিজস্ব জমিতে গত জুন মাস থেকে একটি পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল নভোটেলের সঙ্গে চুক্তি করে ১৭০ কক্ষের পাঁচতারা হোটেলটি নির্মাণ করছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২০২০ সালের জুনে এটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামে নতুন পাঁচতারা হোটেলের চাহিদা বিষয়ে র‍্যাডিসন ব্লু চিটাগাং বে ভিউর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (জনসংযোগ) তাখরিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুরুর চেয়ে এখন আমাদের হোটেলে অনেক বেশি

সাড়া পাচ্ছি। এদের মধ্যে দেশি-বিদেশি দুই ধরনের গ্রাহকের সংখ্যাও বেড়েছে। ’


মন্তব্য