kalerkantho


ফেব্রিক্সের পসরা সাজিয়ে ১৮০ প্রতিষ্ঠান আইসিসিবিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফেব্রিক্সের পসরা সাজিয়ে ১৮০ প্রতিষ্ঠান আইসিসিবিতে

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া ১১তম ফেব্রিক্স প্রদর্শনীতে পণ্য দেখছেন এক বিদেশি ক্রেতা। এতে চারটি দেশ অংশ নিয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছোট ছোট অনেকগুলো স্টল। প্রতিটি স্টলেই হ্যাঙারে একটার পর একটা ছোট ছোট কাপড়ের টুকরো সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রতিটি কাপড়ের টুকরোই ভিন্ন ভিন্ন রঙের। দু-একটি স্টলে আবার টুকরো কাপড়ের পাশাপাশি আস্ত জিন্স প্যান্টও রাখা হয়েছে। সেটা দেখে মনে হতেই পারে এরা জিন্স প্যান্ট তৈরি করে বা বিক্রি করে। আসলে তা নয়। প্রতিটি কম্পানী শুধু বিভিন্ন রং এবং মানের ফেব্রিক্স বা কাপড় তৈরি করে থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ফেব্রিক্স প্রদর্শনী। এখানে প্রধানত চীনের স্টলই বেশি। তাছাড়া সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, মালয়শিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের ১৮০টি প্রতিষ্ঠান এ প্রদর্শনীতে নিজেদের তৈরি ফেব্রিক প্রদর্শন করছে। ১১ তম বারের মত এ মেলা শুরু হয়েছে ঢাকায়।

এর আয়োজনে রয়েছে সেমস গ্লোবাল ইউএসএ ও সিসিপিআইটি টেক্স চায়না।

চায়না কোম্পানি শোজিং স্কাই আপ টেক্সটাইল কোং লিমিটেড এর স্টলের প্রদর্শনীতে দেখা যায়, নানা ধরণের ফেব্রিকস সাজানো রয়েছে। এর মধ্যে টি-শার্ট, শীতের কাপড়, লেইস সহ বিভিন্ন পোশাকের শত শত ফেব্রিকস সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা এসে ফেব্রিকস এর মান নিয়ে কথা বলছেন।

শোজিং স্কাই এর ম্যানেজার জেসন উ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবারই এ প্রদর্শনীতে অংশ নেই। প্রতিবারই বেশ ভালো রকমের অর্ডার পাই। কারণ আমাদের ফেব্রিকস এ আমারা কোয়ালিটি এবং কালার কম্পিনেশনকে সবসময়ই গুরুত্ব দেই। এবারও আশা করছি মেলায় বেশ অর্ডার মিলবে। ’

পাশেই আরেকটি স্টল রয়েছে এম অ্যান্ড এল গুয়াংঝু ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কম্পানির। কম্পানিটি শুধু জিন্স প্যান্টের জন্য ফেব্রিক্স তৈরি করে থাকে। তারা প্রদর্শনীতে জিন্সের ফেব্রিকস এর নানা কোয়ালিটি দেখাচ্ছেন। নানা কম্পোজিশনের এসব ফেব্রিকস দেখছেন ক্রেতারাও। আবার শোজিং মিলিং কম্পানীর প্রদর্শনীতে আলাদাভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে জার্সি তৈরির জন্য নানা কোয়ালিটির ফেব্রিক্স। নানা মান এবং রং বেরংয়ের ফেব্রিক্স তো আছেই। তারপরও কারও যদি আলাদা কোন কোয়ালিটির ফেব্রিক্স প্রয়োজন পড়ে সেটাও করে দেন তারা। এ কম্পানির ট্রেক্সটাইল ডিভিশনের ম্যানেজার আইভি বলেন, ‘আমরা ক্রেতার প্রয়োজনটা বুঝতে চেষ্টা করি। তারা যেটা চায়, সেটাই আমরা করে দেওয়ার জন্য কাজ করি। আবার দামের দিক দিয়েও কম নিয়ে থাকি। ’ এছাড়া বাচ্চাদের পোশাক, ছেলে মেয়েদের জন্য শার্ট, প্যান্ট, জামা, টি-শার্ট, টুপি, জার্সি সহ বিভিন্ন ধরণের পোশাকের ফেব্রিক্স তৈরি করে এসব কোম্পানীগুলো।

 

প্রদর্শনীর বিষয়ে জানতে চাইলে সিসিপিআইটি টেক্স চায়নার সেক্রেটারি বলেন, ‘এখানে ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে কম্পানীগুলো তাদের স্টল সাজিয়ে থাকে। ক্রেতারাও অনেক জিনিসের মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দ খুজে নেয়। এটাই এ প্রদর্শনীর মূল বৈশিষ্ট্য। ’

ডব্লিউটিও র্যাংকিং এ তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। যার প্রায় ৭ হাজার ৫০০ গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার চাহিদা মেটানোর জন্য ৭৫ শতাংশ ফেব্রিকস আমদানি করতে হয়।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন এন্ড ফেব্রিকস শো বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে এ প্রদর্শনী চলবে ১৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


মন্তব্য