kalerkantho


দেশীয় প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দেশীয় প্লাস্টিক পণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে। এ কারণে প্লাস্টিক শিল্পে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও মূল্য সংযোজনের উদ্যোগ নিতে হবে।

এর মাধ্যমে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণেরও সুযোগ তৈরি হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ পাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং চান চাও ইন্টারন্যাশনাল কম্পানি তাইওয়ানের যৌথ উদ্যোগে চার দিনব্যাপী ১২তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম. এ মান্নান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল কম্পানির নির্বাহী পরিচালক ওভারসিজ মিজ জুডি ওয়াং বক্তব্য দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘প্লাস্টিক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বিকাশমান শিল্প খাত। কাঠের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বাংলাদেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ হাজার ৩০টি প্লাস্টিক কারখানা গড়ে উঠেছে। এ খাতে সরাসরি পাঁচ লাখ এবং পরোক্ষভাবে সাত লাখ লোক কাজ করছে। ’

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬-তে আমরা পাস্টিক শিল্পকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের তালিকায় শীর্ষস্থানে রেখেছি।

 মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানের ধলেশ্বরী ব্রিজের পশ্চিম পাশে বড়বর্ত্তা মৌজায় ৫০ একর জমির ওপর একটি প্লাস্টিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৩৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এ শিল্পনগরীর ৩৭০টি প্লটে কম-বেশি ৩৬০টি প্লাস্টিক শিল্প ইউনিট স্থাপন করা হবে। এসব শিল্প ইউনিটে এক হাজার ৮০০ নারীসহ মোট  ১৮ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বিসিককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে এম এ মান্নান বলেন, ‘প্লাস্টিক খাত যাতে সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার এরই মধ্যে শিল্প খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরো অগ্রাধিকার দিতে হবে এ খাতকে। বিশেষভাবে খেলনা প্লাস্টিকের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্য যাতে পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য এ খাতের সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এ খাতের বিকাশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অত্যন্ত জরুরি। ’

সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ১২তম মেলা এটি। মেলায় দেশি-বিদেশি ৪৫০টি স্টল রয়েছে। দেশীয় মোট ১৫টি ক্যাটাগরিতে যেসব প্রতিষ্ঠান স্টল দিয়েছে তাদের মধ্যে প্লাস্টিক হাউজ আইটেমস, প্যাকেজিং ম্যাটারিয়ালস, প্লাস্টিক মাউল্ড, ফার্মাসিউটিক্যাল, প্লাস্টিক ফার্নিচার, মেলামাইন, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, পিপি ওভেন ব্যাগ উল্লেখযোগ্য। মেলা প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের কোনো টিকিট কিনতে হবে না।


মন্তব্য