kalerkantho


পানগাঁওয়ে আমদানি পণ্য পরিবহন চার গুণ বেড়েছে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পানগাঁওয়ে আমদানি পণ্য পরিবহন চার গুণ বেড়েছে

চট্টগ্রাম থেকে পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে আমদানি পণ্য পরিবহন চার গুণ বাড়লেও রপ্তানি পণ্য পরিবহনে কোনো সাড়া নেই। ২০১৫ সালে পণ্য পরিবহন ছিল ১২ শ একক, ২০১৬ সালে সেই পণ্য চার গুণ বেড়ে সোয়া চার হাজার এককে উন্নীত হয়েছে।

কিন্তু বিগত চার বছরে কোনো রপ্তানি পণ্য পানগাঁও থেকে আসেনি।

পানগাঁও আইসিটি সচলে মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে পণ্য ওঠানামার বিদ্যমান মাসুল কমানো, জাহাজের শিডিউল ঠিক করা, সব জাহাজের একই ভাড়া নির্ধারণ, আমদানি পণ্যের নির্দিষ্ট একটি অংশ পানগাঁওয়ে পরিবহনে শর্তারোপ এবং জাহাজ ভাড়া ৫০ শতাংশ কমানোর পদক্ষেপ অন্যতম। এসব পদক্ষেপের ফলে আমদানি পণ্য পরিবহন গতি বাড়লেও রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সাড়া মিলছে না।

এ অবস্থার উত্তরণ ঘটিয়ে পণ্য পরিবহনে পানগাঁও আইসিটি পুরোদমে সচল ও ব্র্যান্ডিং করতে আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি টার্মিনালে মতবিনিময় সভা করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং দেশে শীর্ষ আমদানি-রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘পানগাঁও সচলে সব পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের সব উদ্যোগ সব পক্ষকে অবহিত করতে ঢাকায় এই আয়োজন। আমরা যদি আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও পানগাঁও ব্যবহারকারী সবাইকে বোঝাতে সক্ষম হই, তাহলে এটিতে গতি আসবে।

আমদানি পণ্য পরিবহন বাড়াতে পরামর্শ হিসেবে পিআইএল বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহির বলেছেন, পানগাঁওয়ের আশপাশের কারখানাগুলোর আমদানীকৃত ‘র কটন’ বা অপরিশোধিত সুতা এই রুটে পরিবহন নিশ্চিত করলেই সক্ষমতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে এই টার্মিনাল। এ জন্য আমদানিকারকদের এগিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমদানি পণ্য পরিবহনে মাসুল বড় কোনো বিষয় নয়, আমদানিকারককে বোঝাতে হবে এই রুট সবচেয়ে নিরাপদ, উপযোগী ও সময় সাশ্রয়ী। জানা গেছে, পানগাঁও টার্মিনাল সচল করতে চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে ৩৬টি জাহাজ তৈরির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। নির্দিষ্ট সময়ে একটি জাহাজও তৈরি না হওয়ায় বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে বেশি দামে তিনটি রিকন্ডিশন্ড বা একবার ব্যবহৃত জাহাজ কেনে। সেগুলোও পণ্য পরিবহনে সাড়া না মেলায় নির্ধারিত কিছু পণ্য পানগাঁও রুটে পরিবহনে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল। সেটিও সফল না হওয়ায় জাহাজগুলো একপর্যায়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়। বর্তমানে এই রুটে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাতটি জাহাজ। এই রুটে আসছে আরো নতুন জাহাজ। এরই মধ্যে পণ্য পরিবহন ভাড়াও কমানো হয়েছে। সর্বশেষ সব জাহাজের একই হারে ভাড়া নির্ধারণের কৌশল নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এসব ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপের ফলে পানগাঁওয়ে আমদানি পণ্য পরিবহনে গতি আসে। ২০১৩ সালে যেখানে এক বছরে ৩৫৮ একক কনটেইনার পরিবহন দিয়ে শুরু হয়, ২০১৪ সালে সেটি বেড়ে ৯৮৪ একক, ২০১৫ সালে ১২ শ ৪৭ একক এবং ২০১৬ সালে সেটি আরো বেড়ে চার হাজার ২১৬ একক কনটেইনার পরিবহন হয়। বর্তমানে এই রুটে তিনটি জাহাজ প্রতি তিন দিন পর পর নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরিবহন করছে।

এই রুটে বড় অংশ পরিবহন করছে মার্কস লাইন বাংলাদেশ। রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সাড়া মিলছে না কেন জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার (অপারেশন) সারোয়ার আলম চৌধুরী কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘এখন তো জাহাজ বেড়েছে, শিডিউল অনুযায়ী জাহাজ চলছে, প্রায় সব সুবিধা বেড়েছে। এর পরও রপ্তানিকারকরা আগ্রহী হচ্ছে না। ’

তিনি মনে করেন, ‘রপ্তানিকারকদের হয়তো কনফিডেন্টের অভাব আছে, আর চট্টগ্রাম থেকে পাঠালে হয়তো সুবিধাজনক মনে করছেন। এই কনফিডেন্ট লেবেল বাড়াতে হবে, আমরাও সে উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করছি সফলতা আসবে। ’

দেড় শ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে ৩২ একর জমির ওপর পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হয়। নৌপথে কম খরচে পণ্য পরিবহন করতে ২০১৩ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


মন্তব্য