kalerkantho


ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে ভাটা

দেশের দুই পুঁজিবাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মূল্যসূচক বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনও।

কম দামে থাকা শেয়ারের দাম এবং শেয়ার হাতবদলের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। এই নিয়ে টানা সাত কার্যদিবস মূল্যসূচক বাড়ছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক বেড়েছে ২৭৬ পয়েন্ট। যদিও এর আগে মুদ্রানীতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অব্যাহতভাবেই শেয়ার দাম কমেছিল। ওই সময় এক সপ্তাহে সূচক কমেছিল ২৫৪ পয়েন্ট। আতঙ্ক কেটে যাওয়ায় আবারও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়েছে। এতে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে শেয়ারবাজার।

চলতি বছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজারের পালে হাওয়া লাগে। ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখিতায় বাজার নিয়ে শঙ্কিত হয় সংশ্লিষ্টরা।

‘অস্বাভাবিক’ গতিতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে এমন শঙ্কায় বাজারকে টেনে নিচে নামানো হয়। দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন নেমে আসে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে। তবে আবারও দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মূল্যসূচকও ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছে, ধসের পর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল বাজারে। ক্ষতির মুখে থাকা বিনিয়োগকারীরা কিছুটা লাভের মুখ দেখেছিল। তবে মুদ্রানীতি ঘোষণার দিন গভর্নরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাজারকে নিচে নামানো হয়। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে কম দামে শেয়ার বিক্রি করলেও কৌশলী অনেকেই শেয়ার কিনেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারী সক্রিয় হওয়ায় গতিশীল হয়েছে বাজার।

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই বাজারেই লেনদেন ও মূল্যসূচক বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৭৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে ৪০ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা আর মূল্যসূচক বেড়েছিল ১২ পয়েন্ট।

এদিকে বাজার ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হলেও কমেই চলছে মৌলভিত্তির ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের লেনদেন। অন্যদিকে ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন বাড়ছে। মঙ্গলবার ব্যাংক খাতের লেনদেন কমেছে ৩.১১ শতাংশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন কমেছে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন বেড়েছে ৪.৮৩ শতাংশ। সোমবার ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছিল ১২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা মোট লেনদেনের ১৩.৩৩ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন হয়েছিল ১২১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ১২.৫৪ শতাংশ। মঙ্গলবার ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে ১১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা মোট লেনদেনের ১০.২২ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন হয় ৯২ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ৮.৫৩ শতাংশ। আর ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে ২১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা ২০.০৯ শতাংশ। আগের দিন এই খাতে লেনদেন হয়েছিল ১৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ১৫.২৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৭৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে ৪০ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৮০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। লেনদেন শুরুর পর থেকে বাজারের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। এতে উত্থানের মধ্যেই লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৯৯ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৭টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১৯৫টি বা ৫৯.৬৩ শতাংশ, কমেছে ৯১টি বা ২৭.৮৩ শতাংশ ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টি বা ১২.৫৪ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স। কম্পানিটির ৭৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইডিএলসি ফাইন্যান্সের লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা তিতাস গ্যাসের লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অন্য শীর্ষ কম্পানিগুলো হচ্ছে অ্যাপোলো ইস্পাত, এসিআই ফর্মুলেশনস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আমান ফিড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ও ডরিন পাওয়ার জেনারেশন।

আরেক বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ৭৫ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ২৫৮টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১৬৬টি, কমেছে ৬১টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টি কম্পানির শেয়ারের দাম।


মন্তব্য