kalerkantho


এক সীমানায় ২৫ অর্থনৈতিক অঞ্চল!

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এক সীমানায় ২৫ অর্থনৈতিক অঞ্চল!

সরকারি নির্দেশনায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সারা দেশে যতগুলো এসইজেড (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড়। ফেনী নদীর দুই পারে অবস্থিত মিরসরাই উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চল ও জেগে ওঠা চরে প্রায় ৩০ হাজার একর জায়গাজুড়ে হবে দেশের বৃহত্তম এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি।

তবে বেজা সূত্র জানিয়েছে, এটি একক অর্থনৈতিক অঞ্চল না হয়ে বরং একটি শিল্পনগরী হিসেবেই গড়ে তোলা হবে। যেখানে অন্তত ২৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। বেজা যেটাকে বলছে ‘মিরসরাই ইন্টিগ্রেটেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’।

বেজা সূত্র জানায়, ৩০ হাজার একর জায়গাজুড়ে শিল্পনগরীটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ফলে এ অঞ্চল থেকেই বছরে পাঁচ বিলিয়ন ইউএস ডলারের পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বেজা কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে মিরসরাই অঞ্চলের ১৩ হাজার ১১৭ একর এবং ফেনী অঞ্চলের সাত হাজার ২১৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যার বেশির ভাগ বেজাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন চলছে সরকারি এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ভূমি উন্নয়নের কাজ।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে কি না তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

তবে আশা করছি আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এখানে ২৫ থেকে ৩০টি আলাদা আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল হতে পারে। ’

প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রথম ধাপে ৫৫০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগির দরপত্রে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হবে। এই ধাপে এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

দ্বিতীয় ধাপে প্রস্তুত করা হচ্ছে এক হাজার ৩০০ একর জমি। এ জন্য ১৯ কিলোমিটার উপকূলীয় রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। পিজিসিবি নির্মাণ করবে ২৩০ কেভিএ গ্রিডের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, চার লেনের অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করবে। দ্বিতীয় ধাপের প্রকল্পে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান আশা করছে বেজা। আগামী মাসে এই ধাপে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারী চেয়ে আহ্বান জানানো হবে। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) মিরসরাই শিল্পনগরীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য এক হাজার ১৫০ একর জমি দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বেজা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭ কিলোমিটার, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭৯ কিলোমিটার এবং রাজধানী ঢাকা থেকে ১৮২ কিলোমিটার দূরত্বের মিরসরাই শিল্পনগরী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য খুবই আকর্ষণীয় স্থান। পণ্য রপ্তানির সুবিধার্তে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে মিনি সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। রেলপথ কর্তৃপক্ষও অর্থনৈতিক অঞ্চল পর্যন্ত রেললাইন বসানোর জন্য প্রাথমিক মূল্যায়ন শুরু করেছে।

মিরসরাই শিল্পনগরীতে বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দুই হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপকূলীয় রক্ষা বাঁধ নির্মাণেই ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এই জোন সম্পর্কে সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বেজার ব্যবস্থাপক (উপসচিব মর্যাদার) মোহাম্মদ সোহেলের রহমান বলেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গন্তব্য। ’

বেজা জানায়, সরকার দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য পুরো দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী ৫০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে দেশে মোট এক লাখ একর জমি শিল্পায়নের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৭৪টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মিরসরাইয়ে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কক্সবাজার এলাকায় আরো কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 


মন্তব্য