kalerkantho


উৎসব চাহিদা মেটাচ্ছে সাভারের গোলাপ

তায়েফুর রহমান, সাভার   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উৎসব চাহিদা মেটাচ্ছে সাভারের গোলাপ

সাভারের বিরুলিয়া এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষেরই এখন প্রধান জীবিকা গোলাপের চাষ। ছবি : শেখ হাসান

বাতাসে সুবাস ছড়িয়ে থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে বাহারি গোলাপ। ফুটন্ত গোলাপের লালের আভায় যেন হাসছে বাগান। সেই হাসির বিস্তার চাষির মুখেও। কারণ অনুকূল আবহাওয়ার সুবাদে ভালো ফলনের পাশাপাশি গোলাপ চাষিরা এবার দামটাও পাচ্ছেন ভালো।

শীত মৌসুমে বরাবরই গোলাপের চাহিদা বেশি থাকে। এ ছাড়া বড় উপলক্ষ হিসেবে রয়েছে পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। চাহিদা সামনে রেখে সাভারের অন্তত ২০টি গ্রামের ফুল চাষিদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।

একটা সময় ছিল তখন শৌখিন ব্যক্তিরাই কেবল বাড়ির আঙিনায় গোলাপের চাষ করত। দিন বদলেছে। এখন গোলাপের চাষ হয় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে। সাভারের বেশ কয়েকজন চাষির কাছে গোলাপ ফোটানো এখন বড় ধরনের লাভজনক একটি আবাদ।

তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক বেকার যুবকও ঝুঁকেছে এই পথে। সাভারের এসব গোলাপ চাষির উত্পাদিত ফুল বিদেশে রপ্তানি না হলেও রাজধানী ঢাকাসহ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে অনেকাংশেই সক্ষম হচ্ছে। আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে উত্পাদিত গোলাপ রপ্তানি করা সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন অনেক চাষি।

সরেজমিনে সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও চাষিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, দেশে গোলাপের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অভিজাত পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের বিয়েশাদিতে এখন গোলাপ ফুল না হলে যেন চলেই না। বিভিন্ন উৎসবে ঘর সাজাতে গোলাপের জুড়ি মেলা ভার। নববর্ষ ও ভ্যালেন্টাইন ডে উদ্‌যাপনেও গোলাপের কদর বেড়ে যায় কয়েকগুণ। গুণে-মানে ভালো গোলাপ হলে ক্রেতারা ভালো দাম দিতে দ্বিধা করে না। আর সে কারণে সাভারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গোলাপের বাণিজ্যিক চাষ। কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে এর স্থায়িত্ব, দীর্ঘায়িত লম্বা ডাটা ও সৌরভ সুবিদিত বর্ণময় গোলাপই সবার পছন্দ। তাই বাণিজ্যিক গোলাপের মান উন্নয়নের জন্য অবিরত চলছে গবেষণা। তবে এ ক্ষেত্রে সাফল্য বিচারে সরকারি পর্যায়ের চেয়ে ব্যক্তি উদ্যোগ অনেকটা এগিয়ে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ২৫০ হেক্টর জমিতে গোলাপের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে বিরুলিয়া ইউনিয়নের বিরুলিয়া, মেস্তাপাড়া, সাদুল্লাহপুর, সামাইর ও শ্যামপুর এলাকায়। এসব এলাকার দুই শতাধিক চাষি বাণিজ্যিকভাবে গোলাপের চাষ করছেন। ফলন আর চাহিদা ভালো হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এর কলেবর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাভারের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সড়কের পাশে, বাড়ির সামনে এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও গোলাপের চাষ হয়েছে। বাণিজ্যিক বাগানগুলো সকালের দিকে সুনসান থাকলেও দুপুরের পর থেকেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল কাটা, বাছাই, ভেজানো, বাঁধা—সবই তারা শেষ করেন সন্ধ্যার আগে। কারণ সন্ধ্যার পরই জমে ওঠে মৈস্তাপাড়া ও শ্যামপুরের ফুলের বাজার।


মন্তব্য