kalerkantho


জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন

‘গুটি কয়েক খাতে না দিয়ে ঋণ বহুমুখীকরণ করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘গুটি কয়েক খাতে না দিয়ে ঋণ বহুমুখীকরণ করতে হবে’

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ

গুটিকয়েক শিল্প খাতকে ঘিরে ঋণ বিতরণ বাড়ছে ব্যাংকগুলোর। এর থেকে বেরিয়ে এসে ঋণ বিতরণকে  বহুমুখী করতে বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

এটা করতে পারলে বেশি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্বের হার কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সব কিছুর মধ্যে রাজনীতি ঢুকানো ঠিক নয়। ব্যাংকিং খাতে কোনো অভিজ্ঞতা নেই—এমন অনেককে ব্যাংকে (পরিচালক হিসেবে) বসানো হয়েছিল। এখন বুঝা যাচ্ছে, এটা সরকারের ভুল ছিল। অনভিজ্ঞ যাঁরা সরকারি ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন, তাঁরা জনগণকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে নিজেরাই সেবা নিয়েছেন।

ব্যাংক খাতকে স্বচ্ছ রাখতে সবাইকে যত্নবান হয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকা তৈরি করে ধীরে ধীরে ঋণ আদায় করতেও বলেন তিনি।

নতুন করে যেন আর কোনো ঋণখেলাপি না হয় সেদিকে নজর রাখতে বলেন। ব্যাংকিং খাতে আর যেন কোনো অনিয়ম না হয় সেদিকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তোফায়েল আহমেদ।

এর আগে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, দেশের ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্র খাতের চার বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানত ২৬ শতাংশ এবং ঋণ ১৭ শতাংশ। তবে রাষ্ট্র খাতের অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় জনতা ব্যাংকের অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে নন-ফান্ডেড দায়ের এক হাজার ২৯২ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে যাওয়া এবং মোট ঋণের ১২ শতাংশ ফোর্স লোনে সৃষ্টি হওয়া মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। তিনি ব্যাংকের সব ক্ষেত্রে নিয়মাচার পরিপালনের পরামর্শ দেন।

এসএমই বা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকে আরো গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন গভর্নর। তিনি আরো বলেন, ‘এটি আমাদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করে। দারিদ্র্য দূর করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করে এটি। এ ছাড়া নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সহায়তা করে। ’

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহিদ-উজ-জামান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ঋণ পুনর্গঠন করেছিলাম। ভেবেছিলাম, ব্যাংকের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধাক্কা ভালোভাবে সামলাতে পেরেছি। ’

আর্থিক তথ্য তুলে ধরেন জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম। তিনি জানান, গত বছরে ব্যাংকটি এক হাজার ১০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। যা ২০১৫ সালে ছিল এক হাজার ৭২ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০.৪০ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ১২.৩৪ শতাংশ। একই সঙ্গে গত বছরে ব্যাংকের লোকসানি শাখা ৭৪টি থেকে ৪৮টিতে নেতে এসেছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনতা ব্যাংকের পরিচালক এ কে ফজলুল আহাদ, সেলিমা আহমাদ প্রমুখ।

 


মন্তব্য