kalerkantho


ভারতের গর্ব ‘অ্যাম্বাসাডর’ এখন ফরাসিদের হাতে

৮০ কোটি রুপিতে কিনে নিচ্ছে পুজো

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারতের গর্ব ‘অ্যাম্বাসাডর’ এখন ফরাসিদের হাতে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, নায়ক-নায়িকা এবং সবশ্রেণির মানুষ একসময় অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ব্যবহার করতেন।

বিক্রি না থাকায় গাড়ি তৈরি বন্ধ হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। তবুও ভারতীয়রা চেয়েছিল তাদের সম্মান আর ঐতিহ্যের প্রতীক ‘অ্যাম্বাসাডর’ গাড়ি টিকে থাকুক দীর্ঘ সময়।

কিন্তু সেই তরও যেন সইছিল না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান মোটরসের। অনেকটা পানির দামেই, মাত্র এক কোটি ২০ লাখ ডলারে (৮০ কোটি রুপি) তাদের এই আইকনিক ব্র্যান্ডটি ফরাসি কম্পানি পুজোর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

পঞ্চাশের দশকে ব্রিটিশ গাড়ির মডেল ‘মরিস অক্সফোর্ড’-এর আদলে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরপাড়ায় অ্যাম্বাসাডর গাড়ি তৈরি শুরু করে হিন্দুস্তান মোটরস। ভারতে তো প্রথমই, সারা এশিয়ায় দ্বিতীয় গাড়ি কারখানা ছিল এটি। তারপরে টানা প্রায় চার দশক ভারতের রাস্তায় প্রায় একাধিপত্য ছিল গাড়িটির।

প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, নায়ক-নায়িকা সবাই তখন অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ব্যবহার করেন। সাধারণ মানুষেরও বাহন হয়ে ওঠে এটি। পুরো দেশের কাছে এক ডাকে চেনা কিংবদন্তি ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে অ্যাম্বাসাডর।

ষাট ও সত্তরের দশকে যারা ভারতে বেড়ে উঠেছে, তাদের কাছে অ্যাম্বাসাডর কেবল একটি গাড়ি নয়, এটা ভারতীয় শহুরে দৃশ্যপটের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

তেমন দৃষ্টিনন্দন না হলেও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে চার চাকার এই চওড়া গাড়ি দীর্ঘদিন বেশির ভাগ ভারতীয়র কাছে ছিল কাঙ্ক্ষিত বাহন। অনেকের কাছে এখনো এই গাড়ি ফেলে আসা তারুণ্যের স্মারক।

আশির দশক পর্যন্ত ভারতের বাজারে ছিল তার একচ্ছত্র আধিপত্য। তখন বিক্রি ছিল ২৪ হাজারের মতো। নব্বইয়ের দশকে নতুন নতুন ব্র্যান্ডের আগমনে এ গাড়ির ব্যবহার ও বিক্রি কমতে থাকে। ২০১৪ সালে বিক্রি মাত্র আড়াই হাজারে নেমে আসে। ফলে ওই বছর ২৪ মে লোকসানের মুখে হিন্দুস্তান মোটরস অ্যাম্বাসাডর উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। হিন্দুস্তান মোটরসের মালিক সি কে বিড়লা শিল্প গ্রুপ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে পুজোর সঙ্গে ৮০ কোটি রুপির চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। বিড়লার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী অ্যাম্বাসাডরের ব্র্যান্ড ও ট্রেডমার্ক ফরাসি ওই কম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। পুজো ভারতের বাজারে অ্যাম্বাসাডরকে নতুন করে চালু করবে, নাকি তাদের অন্য কোনো পরিকল্পনা আছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের বাজারে ব্যবসা শুরু করা পুজো অনেক দিন ধরেই  সেখানে শক্ত ভিত গড়ার চেষ্টায় আছে। ভারতীয় ঐতিহ্যের এ ব্র্যান্ড হয়তো বা তাদের সেই সুযোগ করে দেবে। বিবিসি, হিন্দুস্থান টাইমস।


মন্তব্য