kalerkantho


অ্যাম্বিয়েন্টি ফ্রাংকফুর্টে বাংলাদেশের ৩৮ প্রতিষ্ঠান

ভোগ্য পণ্যের বৈশ্বিক প্রদর্শনীতে নতুন রপ্তানি আদেশের প্রত্যাশা

এম সায়েম টিপু ফ্রাংকফুর্ট (জার্মানি) থেকে   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভোগ্য পণ্যের বৈশ্বিক প্রদর্শনীতে নতুন রপ্তানি আদেশের প্রত্যাশা

নতুন ক্রেতার প্রত্যাশা নিয়ে দেশের হস্তশিল্প ও ভোগ্য পণ্যের উদ্যোক্তারা এখন ইউরোপে বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র জার্মানির ফ্রাংকফুর্টে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও নান্দনিক গৃহস্থালি পণ্যের আসর ‘অ্যাম্বিয়েন্টি ফ্রাংকফুর্ট ২০১৭’-এ দেশের শীর্ষস্থানীয় ৩৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, ইউরোপের এই প্রদর্শনীতে ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি রপ্তানি আদেশ পাবেন।

গতকাল শুক্রবার জার্মানির ফ্রাংকফুর্টে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি উদ্যোক্তারদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। এই প্রদর্শনী চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেসে ফ্রাংকফুর্ট সূত্র জানায়, এ মেলায় বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাধ্যমে দেশের ১২ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। অন্যরা সরাসরি মেলায় অংশগ্রহণ করছে। সিরামিক, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি পণ্য, হস্তশিল্প, গৃহসজ্জা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ অন্যান্য ভোগ্য পণ্যের প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিচ্ছে।

মেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল করিম মুন্না কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান পাটজাত পণ্য এবং পাটের ব্যাগসহ অন্যান্য সামগ্রী রপ্তানি করে বছরে প্রায় ৫০ লাখ ডলার আয় করে। এবারের প্রদর্শনী থেকে আরো ১০ লাখ ডলার আয় বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।  

মুন্না বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে গিফট ও হাউসওয়্যারের পণ্য বাজারজাত করতে হলে এ মেলায় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এখানে এলে বোঝা যায়, বিশ্ববাজারে আমাদের অবস্থান কোথায়। আমাদের দেশের যেসব উদ্যোক্তা এ খাতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তাঁদের অধিকাংশই এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। একই ছাদের নিচে প্রায় ১৪০টি দেশের উদ্যোক্তা ও ভোক্তারা আসেন এখানে। ’

প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেসে ফ্রাংকফুর্ট বাংলাদেশের পরিচালক (যোগাযোগ) নাজনীন সালাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, গত বছর এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের ১৪৩ দেশের এক লাখ ৩৭ হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এবারের প্রদর্শনীতেও ৯৬টি দেশের চার হাজার ৩৫৬টি স্টল অংশ নিচ্ছে। তিনি জানান, এবারের প্রদর্শনীতে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগম হবে। তাঁর প্রত্যাশা, মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিনন্দন ও উন্নত মানের পণ্যের স্পট অর্ডারও বাড়বে অন্যবারের তুলনায়।

মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সেলফ হেলপ ক্রাফটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হাকিম কালের কণ্ঠকে বলেন, শুরুতেই বেশ সাড়া পাচ্ছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে। প্রথম দিনই তাঁদের পাঁচজন পুরনো (ইউরোপের) ক্রেতা এবং আমেরিকার দুজন ক্রেতার সঙ্গে নতুন ক্রয় আদেশের ব্যাপারে কথা হয়েছে। মেলার শেষ দিকে আরো বেশি রপ্তানি আদেশ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

এবারের মেলায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্টিসান সিরামিক লিমিটেড, বেঙ্গল পলিমারওয়্যার লিমিটেড, আড়ং, ক্রিয়েশন (প্রাইভেট) লিমিটেড, ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফটস, ফার সিরামিকস, গোল্ডেন জুট প্রডাক্টস, মুন্নু সিরামিকস, ওনাস হ্যান্ডিক্রাফটস লিমিটেড, প্যারাগন সিরামিকস, পিপলস সিরামিকস, প্রতীক সিরামিকস, আরএফএল প্লাস্টিকস, শাইনপুকুর সিরামিকস, ঊষা হ্যান্ডিক্রাফটস অ্যান্ড ভারভি লেদারওয়্যার লিমিটেড ইত্যাদি।

মেসে ফ্রাংকফুর্ট বিশ্বের ট্রেড শো আয়োজকদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়। এতে সম্পৃক্ত রয়েছে দুই হাজার ২৪৪ জন কর্মী। এর নেটওয়ার্কে বাংলাদেশসহ প্রায় ৩০টি সাবসিডিয়ারি এবং ৫৫ জন আন্তর্জাতিক  সেলস পার্টনার আছে।


মন্তব্য