kalerkantho


নেগেটিভ ইক্যুইটির হিসাবে লেনদেন ছয় মাস বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুঁজিবাজারে ঋণাত্মক মূলধনধারী বিনিয়োগ হিসাবে আরও ছয় মাস শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবে বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন রুলস ১৯৯৯-এর ৩(৫) ধারা আগামীতে স্থগিত করায় এই সুযোগ পাওয়া যাবে।

গতকাল বিএসইসির কমিশন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাঠানো প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) অনুরোধে ডিএসই গত রবিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে প্রস্তাবটি পাঠিয়েছিল।

বিএসইসির কমিশন বৈঠকের পর পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত নেগেটিভ ইক্যুইটির অ্যাকাউন্টে লেনদেন করা যাবে। পরে আদেশ জারি হলে সেদিন থেকে পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, মার্জিন রুলস ১৯৯৯-এর ৩(৫) ধারা অনুসারে ঋণাত্মক মূলধনধারী হিসাবে গ্রাহক নিজে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারে না। কেবল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এই ধরনের হিসাবের শেয়ার বিক্রি করে তার ঋণ সমন্বয় করে নিতে পারে। ২০১০ সালের ধসের পর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএসইসি আলোচিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটির কার্যকারিতা কয়েক দফা স্থগিত করে। সর্বশেষ স্থগিতাদেশের মেয়াদ গত ৩১ জানুয়ারি শেষ হয়ে গেছে।

মার্জিন ঋণ হচ্ছে বিশেষ ধরনের ঋণ সুবিধা। শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকার হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহককে এই ঋণ দিয়ে থাকে। বিএসইসি প্রণীত মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর আওতায় এই ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

২০১০ সালের পর থেকে টানা দরপতনে অসংখ্য মার্জিন অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগকারীর মূলধন ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ওই সব অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম এমন জায়গায় নেমে এসেছে যে বিনিয়োগকারীর নিজস্ব মূলধন বলতে কিছু নেই। উল্টো গ্রাহকের কাছে টাকা পাবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। আইন অনুসারে এমন অ্যাকাউন্টে লেনদেন নিষিদ্ধ। ১৯৯৯ সালের মার্জিন রুলসের ৩(৫) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালান্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তার কাছে নতুন করে মার্জিন চাইবে। এই মার্জিনের পরিমাণ এমন হবে যাতে তার ডেবিট ব্যালান্স ১৫০ শতাংশের ওপরে থাকে। নোটিশ দেওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে পর্যাপ্ত মার্জিন জমা দেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে নতুন কোনো লেনদেনের অনুমতি দিতে পারবে না ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।


মন্তব্য