kalerkantho


এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ফোরাম

আঞ্চলিক ন্যায়পরায়ণতা বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আঞ্চলিক ন্যায়পরায়ণতা বাড়ানোর তাগিদ

এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ন্যায়পরায়ণতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংঘাতের বদলে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, দারিদ্র্য ও পানিবণ্টন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে দেশগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দুই দিনের এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা’ শিরোনামে আয়োজিত আলোচনা পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে গওহর রিজভী আরো বলেন, ন্যায়পরায়ণতা বা ইন্টিগ্রিটির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থান একসময় ভালো থাকলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা কমে যাওয়ায় এখন দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থান নিচের দিকে, যা মোটেই কাম্য নয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দারিদ্র্য দূর করা এ অঞ্চলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া পারস্পরিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে সহযোগিতা জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পারস্পরিক আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত ভূমিকা রাখতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান ছিল ৭০ শতাংশ। এখন তা কমে ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

জিডিপিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কৃষির বদলে এখন শিল্প ও সেবা খাতনির্ভর হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৭.২ শতাংশ হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এসডিজির বেশির ভাগ লক্ষ্যই বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এটি অর্জনে বেসরকারি খাতকে মূল ভূমিকা রাখতে হবে। তবে বেসরকারি খাত যাতে মূল ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা দরকার হবে। সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে বেসরকারি খাতের দুর্নীতি কমিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ও এসডিজির সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি খাতে নজরদারি ও সহযোগিতা উভয়ই দরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যৌথভাবে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ এবং ইউএনএসকাপ। এতে আরো বক্তব্য দেন নেপালের বাণিজ্যমন্ত্রী রোমি গাওচান তাসাকালি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝাং ও আংকটাডের মহাসচিব মুখিসা কিটুই।

 


মন্তব্য