kalerkantho


ফেব্রুয়ারিতে তিন উৎসব

যশোরে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

ফখরে আলম, যশোর   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যশোরে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে গদখালীর ফুল চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভালোবাসা দিবস, বসন্ত উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারি—এই তিন দিবসে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিকরগাছার গদখালী এলাকার ফুলচাষিরা। দু-এক দিনের মধ্যেই এসব উৎসবের ফুল বিক্রি শুরু হবে। এখন চাষিরা গোলাপে ক্যাপ লাগানো, জারবেরা ক্ষেতে সেচ দেওয়া, গ্লাডিওলাসে স্প্রে করাসহ ফুলক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করছেন। সরেজমিন ঘুরে ফুল বাণিজ্যের এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

যশোর জেলার ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার গ্রামের পর গ্রামে হাজারো কৃষক বাণিজ্যিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে ফুল চাষ করে আসছেন। এসব গ্রামে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, চন্দল্লকা, গাঁদা, জারবেরা ফুলের চাষ হয়। প্রতিদিন গদখালী ফুলের হাটে চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফুল বিক্রি করেন। এখান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ফুল কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি গদখালী এলাকার ফুলচাষি আব্দুর রহিম জানান, শার্শা, ঝিকরগাছা, যশোর সদর, মণিরামপুর, কেশবপুর ও চৌগাছা উপজেলার ৭৬টি গ্রামে এবার এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। ছয় হাজার তালিকাভুক্ত চাষি ফুল চাষ করলেও বর্তমানে ফুল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দুই লাখ মানুষ। তিনি বলেন, ‘১৩ ফেব্রুয়ারি বসন্ত উৎসব, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস আর একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে আমরা ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়েছি।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করি, আমরা টার্গেট পূরণ করতে পারব’।

গদখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী হাফিজা খাতুন দুজন মিলে এবার চার বিঘা জমিতে জারবেরা ফুলের চাষ করেছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দুজন মিলে ফুলের পরিচর্যা করছেন। ইসমাইল বললেন, ‘তিন দিবস ঘিরে আমরা লাখ টাকার জারবেরা ফুল বিক্রির আশা করছি। দু-এক দিনের মধ্যেই ফুল কাটা শুরু হবে। ’

পটুয়াপাড়া গ্রামের সাহেব আলী এক বিঘা জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন। ফুল যাতে ঝরে না পড়ে এ জন্য তিনি প্রতিটি ফুলে ক্যাপ পরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে আমার ক্ষেতের গোলাপই বাজিমাত করবে। ভালোবাসার উপহার হয়ে সে প্রশংসা কুড়াবে। ’

এবার প্রথম গদখালী গ্রামের ইমামুল ৫০ শতক জমিতে চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিটি চন্দ্রমল্লিকা ফুল বিক্রি করছি তিন থেকে পাঁচ টাকা দরে। ধারণা করছি, ভালোবাসা দিবসে এই ফুলের দাম বেড়ে যাবে। ’ নীলকণ্ঠনগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার রঙিন গ্লাডিওলাস ভালোবাসাকে ধরে রাখবে। কেননা অনেক ভালোবেসে অনেক যত্ন করেই আমি এই ফুল ফুটিয়েছি। ’


মন্তব্য