kalerkantho


বোয়িং বিমানে যাত্রী পরিবহন বাড়ছে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বোয়িং বিমানে যাত্রী পরিবহন বাড়ছে

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ সম্প্রতি উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী

আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহনের বড় পরিসরের বোয়িং বিমান যুক্ত করছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো। গত বছর বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ার ও ইউএস-বাংলা তাদের বহরে যুক্ত করেছে পাঁচটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান।

চলতি বছরে অন্তত পাঁচটি বোয়িং যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হবে। ফলে বছর শেষে ২০১৭ সালে দেশে বোয়িং বিমান সংখ্যা হবে ১৬টি।

বড় পরিসরের বোয়িং থাকায় যাত্রীরা অনেক বেশি আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছে। আর যাত্রীরা বিদেশি বিমান সংস্থার বদলে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বেছে নিচ্ছে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং বিমান নির্মাণকারী সংস্থা ১১ ধরনের বিমান তৈরি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ সিরিজের বিমান। ২০১৬ সালে বিশ্বের বিমান সংস্থার জন্য এই ধরনের ৪১১টি বিমান সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৮ সালে তৈরি শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ সরবরাহ।

এ পর্যন্ত চার হাজার ৩৯৩টি বিমান বিশ্বে যাত্রী পরিবহন করছে। এগুলোর নতুন বাজারমূল্য ৯৬ লাখ ইউএস ডলার।

বহরে বোয়িং বিমান যুক্ত করার বিষয়ে সিনিয়র পাইলট ও রিজেন্ট এয়ারের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) রফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাঝারি দূরত্বে বিশেষ করে পাঁচ ঘণ্টার দূরত্বে চলাচলে বোয়িং ৭৩৭-৮০০-এর জুড়ি নেই। এটি এমন একটি বিমান, যার যাত্রীর ধারণক্ষমতা, জ্বালানি সাশ্রয় সব কিছুই ইকোনমি পয়েন্ট অব ভিউতে সবচেয়ে আদর্শ। এ কারণে দেশে, একই সঙ্গে বিদেশেও এই সিরিজের বিমানের ব্যবহার বেড়েছে। ’

এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা জানান, বিমানবহরে ডিসি ১০ যুগের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ বিমান ২০০৮ সালে বোয়িং বিমান যুগে প্রবেশের উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালে বিমানবহরে প্রথম যুক্ত হয় ‘পালকি’ ও ‘অরুণ আলো’ নামে দুটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর সিরিজের বিমান। এরপর ২০১৪ সালে যুক্ত হয় ‘আকাশ প্রদীপ’ ও ‘রাঙা প্রভাত’ নামে আরো দুটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ সিরিজের বিমান। সর্বশেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্ত হয় আরো দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ সিরিজের বিমান। বাকি চারটি বিমানের মধ্যে ২০১৯ সালে দুটি এবং ২০২০ সালে দুটি ৭৮৭ ড্রিম লাইনার বিমান যুক্ত হবে বিমানের বহরে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানের বহরে ছয়টি বোয়িং বিমান রয়েছে। এগুলো দিয়ে ১৮টি আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন করছে সরকারি এই সংস্থাটি।

বাংলাদেশ বিমানের পর দেশের বিমান সংস্থার মধ্যে রিজেন্ট এয়ারলাইনস যাত্রী পরিবহনে প্রথম দুটি বোয়িং বিমান ৭৩৭-৭০০ যুক্ত করে। আন্তর্জাতিক রুটে দুটি বোয়িং বিমান দিয়ে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দিয়ে বেশ ভালো সাড়া পায় রিজেন্ট এয়ার। এরপর যাত্রী পরিবহনে সংস্থাটি যুক্ত করে আরো আধুনিক সিরিজের ৭৩৭-৮০০ সিরিজের বোয়িং বিমান। তাদের বহরে ২০১৭ সালের গত ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্ত হয় একই সিরিজের আরেকটি বিমান। বর্তমানে সংস্থাটি ছয়টি আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন করছে।

বোয়িং কেনার বিষয়ে রিজেন্ট এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুফ হাবিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বোয়িংয়ে যাত্রী পরিবহনে ভালো সাড়া দেখে আমরাও আগ্রহী হয়েছি। আমাদের দুটি বোয়িংয়ে পারফরম্যান্স ভালো হওয়ায় ২০১৬ সালে একটি যুক্ত করেছি, ২০১৭ সালে আরো তিনটি যুক্ত হবে। ’

মাশরুফ হাবিব জানান, বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়ন করে আর এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থায়ন করে থাকে। ফলে ঋণ পেতে দুটি সংস্থার সুবিধা কাছাকাছি।

তৃতীয় বিমান সংস্থা হিসেবে গত ২০১৬ সালের অক্টোবরে বোয়িং বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এত দিন ৭৬ আসনের ড্যাশ ৮ কিউ ৪০০ বিমান দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন করলেও সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। এরই মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান ২০১৬ সালে যুক্ত হয়েছে। একই সিরিজের আরো দুটি বোয়িং বিমান চলতি ২০১৭ সালে যুক্ত হবে। বর্তমানে সংস্থাটি চারটি আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন করছে।

এ ব্যাপারে ইউএস-বাংলার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক বিষয় নির্ভর করেই আমরা বোয়িং বিমানকে বেছে নিয়েছি। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে বাংলাদেশে বোয়িং চালানোর পাইলট ও প্রকৌশলীদের মধ্যে দক্ষতা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া দেশে বোয়িং চলাচলের অতীতের পারফরম্যান্সও ভালো। ’

 


মন্তব্য