kalerkantho


মোবাইল ফোন অপারেটরদের উদ্দেশে মাতলুব আহমাদ

ব্যাংকিং নয়, টেলিযোগাযোগে মনোযোগ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যাংকিং নয়, টেলিযোগাযোগে মনোযোগ দিন

‘মোবাইল ব্যাংকিং ও আর্থিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক আলোচনায় আবদুল মাতলুব আহমাদ

মোবাইল ফোন অপারেটরদের মূল ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ই-কমার্স, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যবসা করার চেষ্টা করছে।

এত ব্যবসায় না গিয়ে দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় মনোযোগ দিতে হবে। সেটি করলে তারা ভালো সেবা দিতে পারবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

গতকাল বুধবার এফবিসিসিআই এবং জার্মানির এফএনএফ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে ‘মোবাইল ব্যাংকিং ও আর্থিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা বলেন আবদুল মাতলুব আহমাদ। অনুষ্ঠানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারে সমতা আনতে নতুন একটি নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি লীলা রশিদ।

রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, সরকার ব্যবসা করে না, ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করে দেয়। অনলাইনভিত্তিক লেনদেন নিরাপদ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যবহারকারীর সচেতনতা। এ লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে অনেকগুলো সেমিনার করেছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে কঠোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক লেনদেন আরো বিস্তৃত করতে পেপল, পেটিএমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে আনতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি শামীম আহসান। এফবিসিসিআইর ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম, আইসিটি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম, পরিচালক শাফকাত হায়দার, বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, মাস্টার কার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মো. কামাল, মোবাইল ফোন রিচার্জ অ্যান্ড ব্যাংকিং ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সফিকুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মাতলুব আহমাদ বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ই-কমার্স, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। এত ব্যবসায় না গিয়ে দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় মনোযোগ দিতে হবে। সেটি করলে তারা ভালো সেবা দিতে পারবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, বিকাশের কারণে রেমিট্যান্স কমার কথা বলা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ‘এখানে বিকাশ করা হয়’ এ ধরনের ব্যানার দেখা যায়। যদিও দেশের বাইরে বিকাশের কোনো এজেন্ট পয়েন্ট নেই। এখন বৈধ পথে রেমিট্যান্সে বাড়াতে প্রকৃত এনআরবিদের ৫-৭ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের জন্য ২০টি ব্যাংক অনুমতি নিয়ে কার্যক্রমে আছে ১৯টি। অথচ সংখ্যার বিবেচনায় মোট লেনদেনের ৮৯ শতাংশ এবং আর্থিক বিবেচনায় ৭৫ শতাংশ হচ্ছে বিকাশের মাধ্যমে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেটের মাধ্যমে সংখ্যার বিবেচনায় ১০ শতাংশ এবং লেনদেনের ২৪ শতাংশ হচ্ছে। এখন বাজারে সমতা আনতে নতুন একটি নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে কী ধরনের নীতিমালা করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার জন্য গভর্নরের কাছ থেকে তিন মাস সময় নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে একক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। বাকি মালিকানা বাধ্যতামূলকভাবে অন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল অপারেটরকে দিতে হবে। তবে অধিকাংশ ব্যাংক এই নীতিমালার বিরোধিতা করলে তা আটকে যায়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিয়ন্ত্রণ মোবাইল ফোন অপারেটরদের হাতে ছেড়ে না দেওয়ার সংকল্পও ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ই-পেমেন্ট প্রতিনিয়ত বিভিন্ন নতুনত্বের মুখোমুখি হলেও এ বিষয়ে আজঅবধি কোনো নীতিমালা করা যায়নি। আবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অবৈধ ব্যবহার করে রেমিট্যান্স আনার কথা বলে লেনদেন সীমা কমানো হয়েছে। এভাবে চললে ই-কমার্সের বিকাশ ঘটবে না। তিনি টেলিফোন অপারেটরগুলোর অন্যান্য ব্যবসা করার মানসিকতার বিরোধিতা করে বলেন, সব ব্যবসা টেলকো তুলে নিলে অন্যরা কী করবে।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির বলেন, আস্থা অর্জনে সক্ষম হওয়ায় বিকাশ আজকের এই অবস্থানে এসেছে। তবে দু-চারটা অপরাধও হচ্ছে। মানুষের তৈরি এসব অনিয়ম ঠেকাতে সবচেয়ে বেশি দরকার জনসচেতনতা। আর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের পর সেটা কে ব্যবহার করছে নির্দিষ্টভাবে তা জানার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে। যদি কেউ ভুলে টাকা পাঠায় এবং টাকাটা ক্যাশ আউটের আগেই বিকাশে ফোন করে অবহিত করে, তাহলে ওই টাকা উত্তোলন আটকে দেওয়া হয়।


মন্তব্য