kalerkantho


মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বছরের প্রথম মাস হওয়ায় শিক্ষা খরচ, বাড়ি ভাড়াও বাড়তির দিকে। ব্যাপকভাবে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি। গ্রাম ও শহর সব ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, মাসওয়ারি ভিত্তিতে (পয়েন্ট টু পয়েন্টে) জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.১৫ শতাংশে। আগের মাসে যা ছিল ৫.০৩ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরো জানান, জানুয়ারি মাসে মোটা চালের দাম বেড়েছে। তা ছাড়া স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি ও বাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণত জানুয়ারি ও জুন মাসে আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। ’ সার্বিকভাবে চাল, মাছ-মাংস, ভোজ্য তেল, দুধ ও দুগ্ধজাতীয়  দ্রব্যাদি এবং অন্যান্য খাদ্য জাতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হকসহ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিবিএসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৫৩ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৫.৩৮ শতাংশ। গত বছর জানুয়ারির সঙ্গে এ বছর জানুয়ারি মাসের তুলনা করলে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৩.১০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

বিবিএস সূত্র বলছে, জানুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি মাসওয়ারি পয়েন্ট টু পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৯২ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৪.৪৬ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.২৮ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৪.৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৭ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৬.০৭ শতাংশ। তবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.১১ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৬.৭৪ শতাংশ।

বিবিএস সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে মজুরি সূচকও বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে সার্বিকভাবে পয়েন্ট টু পয়েন্টে মজুরি হার দাঁড়িয়েছে ৬.৬৫ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৬.৫৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে কৃষি খাতে পয়েন্ট টু পয়েন্টে বেড়ে হয়েছে ৬.৭০ শতাংশ, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৬.৫৭ শতাংশ। শিল্প খাতে হয়েছে ৬.৪৬ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৬.৩৬ শতাংশ।

সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হার ৩২ শতাংশ : চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে ৩২.৪১ শতাংশ। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত সাত মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ২৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, টাকার অঙ্কে এ বছর এখন পর্যন্ত এডিপির ব্যয় সর্ববৃহত্ অঙ্কের। কেননা একসময় সারা বছরই এডিপিতে ব্যয় হতো ২৮ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় এখন সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সূত্র বলছে, চলতি অর্থবছরের সাত মাস (জুলাই-জানুয়ারি) পেরিয়ে গেলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের দৌড়ে পিছিয়ে ১১ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার এখনো ২০ শতাংশের নিচে রয়েছে।


মন্তব্য