kalerkantho


ফোরজি সেবার জন্য প্রস্তুত বাংলালিংক

মাসুদ রুমী   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফোরজি সেবার জন্য প্রস্তুত বাংলালিংক

চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের জন্য প্রস্তুত বাংলালিংক। সরকার ফোরজি তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) নিলাম ডাকলে তাতে অপারেটরটি অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন বাংলালিংকের মূল অংশীদার প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন ইভস সার্লিয়ার।

এ ছাড়া গ্রাহকদের সেরা ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দিতে ‘ভিওন’ নামের নতুন মেসেজিং অ্যাপলিকেশন, ই-কমার্সসহ নিত্যনতুন সেবা চালু করবে বাংলালিংক। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের সিইও এরিক অস, চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস আসিফ আহমেদ।

২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো থ্রিজি তরঙ্গের নিলাম হয়েছিল। এবার ফোরজি নিলামের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। ফোরজিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে বাংলালিংক কার্যালয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে হুয়াওয়ে। ব্রডব্যান্ড মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৃতীয় প্রজন্মের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বাংলালিংকের ফোরজি পরীক্ষার সময় ডাউনলোড স্পিড ৬০ মেগাবাইটেরও বেশি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। জন ইভস সার্লিয়ার বলেন, ‘ফোরজির নিলাম অনুষ্ঠিত হলে তাতে বাংলালিংক অংশ নেবে। এ ছাড়া অত্যাধুনিক নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ও ডিজিটাল সেবায় ভিম্পেলকম বিনিয়োগ বাড়াবে।

ইভস সার্লিয়ার বলেন, ‘স্মার্টফোনের মাধ্যমে আরো বেশিসংখ্যক গ্রাহক ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা তাদের সীমাহীন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। মোবাইল বাজার যেমন ভয়েস থেকে ডাটা সার্ভিসের দিকে ঝুঁকছে, সেভাবেই জীবনযাত্রাও ডিজিটাল মাত্রায় রূপান্তরিত হবে। বাংলালিংকের লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল ভবিষ্যতে গ্রাহকদের সক্রিয় করে তোলা এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সত্যিকার ডিজিটাল পণ্য সরবরাহ করা। ’

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসে বেশ কয়েকটি সুখবর দিলেন জন ইভস সার্লিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আমাদের গ্রাহকদের সঙ্গে ডিজিটাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। ডিজিটাল দুনিয়ায় যেসব নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে, তার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করতে উন্নত মানের মেসেজিং অ্যাপ, ই-কমার্স, বিনোদনমূলক নানা সেবা নিয়ে আসতে যাচ্ছি। ’

ভিম্পেলকমের সিইও বলেন, ‘২০০৭ সালের আগে আইফোন দেখা যায়নি। ২০০৯ সালের আগে কেউ উবারের মাধ্যমে ট্যাক্সি ভাড়া করেনি। এটা করার জন্য আমাদের উদ্দেশ্য, মানসিকতা ও সংস্কৃতি—এই তিনটি প্রধান চালিকা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়েছে। আমরা এই প্রয়োজনীয়তাগুলোকে এবং কিভাবে সম্ভাব্য বৃহত্সংখ্যক মানুষকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা যায় তা উপলব্ধি করেছি, যাতে তারা প্রকৃত ডিজিটাল জীবনের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ’

বাংলাদেশ থ্রিজির চেয়ে আরো দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রযুক্তি ফোরজি/এলটিইর জন্য প্রস্তুত কি না জানতে চাইলে জন ইভস সার্লিয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশে থ্রিজির ব্যবহার বেশ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটররা থ্রিজির বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলোর সঙ্গে দেশের মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, এর পরও থ্রিজির মাধ্যমে আমাদের আরো অনেক কিছু অর্জন করা বাকি আছে। সামনের দিনগুলোতে বাংলালিংক উদ্ভাবনী এবং যুগান্তকারী সেবার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে এবং এলটিইর মতো আরো উন্নত সেবাগুলোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে। এলটিই সেবা প্রদানের জন্য অপারেটরগুলোকে ব্যবসায়িক দিক থেকে প্রণোদিত হতে হবে, যা নীতিনির্ধারণী সংস্থা থেকে ব্র্যান্ডগুলোর স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতার ওপর নির্ভর করে। ’

টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি প্রতিনিয়ত ডাটাকেন্দ্রিক হচ্ছে, ভিম্পেলকমের ডাটা কার্যক্রম নিয়ে সিইও বলেন, ‘ডাটা ব্যবহারের জন্য সম্ভাব্য সর্বনিম্ন মূল্যে গ্রাহকদের সেরা মানের সেবা দিতে আমরা ডাটা ও ডিভাইসের সমন্বয় করেছি। বাংলাফ্লিক্স, বাংলালিংক মাইন্ড  কেয়ার এবং সেলফ কেয়ারের জন্য মাই বাংলালিংকের মতো নতুন অ্যাপগুলো বাংলাদেশের বাজারে আনার ক্ষেত্রে আমরাই এগিয়ে। আগামীতে আরো স্বল্পমূল্যে গ্রাহকদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়ে এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজের মাধ্যমে বাংলালিংক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। ’

বাংলালিংক শুরু থেকেই ‘গোয়িং ডিজিটাল’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছে। অগ্রগতি কত দূর তুলে ধরে জন ইভস সার্লিয়ার বলেন, ‘গোয়িং ডিজিটাল শুধু বাংলালিংকের লক্ষ্য নয়, বরং এটি ভিম্পেলকমেরও লক্ষ্য। বাংলাদেশসহ আমাদের উদীয়মান বাজারগুলোতে আমরা গোয়িং ডিজিটালের ব্যাপারে ব্যাপক জোর দিচ্ছি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে গোয়িং ডিজিটাল ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশে আমরা অনেক উন্নতি লাভ করেছি। ’

ডিজিটাল ভবিষ্যতের সঙ্গে গ্রাহকদের সম্পৃক্ত করতে বাংলালিংক অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সিইও এরিক অস। তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলালিংকে আমরা ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি। সেবাপদ্ধতিতেও আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্য কর্মীরা যে টেবিল-চেয়ারে বসেন, সিইও হিসেবে আমিও একই আসনে বসি। আমরা কর্মীদের গ্রাহকদের আরো কাছে নিয়ে যেতে চাই। ফোরজি সেবার জন্য বাংলালিংক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম নিউট্রালিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সবাই সমান সুবিধা ভোগ করতে পারে। ’ বাংলালিংকের ডাটা ব্যবহারকারী চার গুণ বেড়েছে বলে জানান এরিক অস।

বাংলাদেশের মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) বাড়ছে। ই-কমার্সের উন্নতির ফলে ডিজিটাল পেমেন্টও বাড়বে জানিয়ে জন ইভস সার্লিয়ার বলেন, ‘আমরা ইলেকট্রনিক অর্থ লেনদেনকে পরিপূর্ণ করতে চাই এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরো অবদান রাখতে চাই। এমএফএস কার্যক্রমে মোবাইল কম্পানিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য আরো বৃহৎ পরিসরে কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে সমর্থন করা। সে কারণেই বাংলালিংক বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলালিংক দেশের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল অপারেটরে পরিণত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। ’

ভিম্পেলকম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ মার্কেটে এর পরিপক্বতা কেমন জানতে চাইলে ইভস সার্লিয়ার বলেন, ভিম্পেলকম ১২টি বাজারে ২০০ মিলিয়নেরও বেশি গ্রাহক নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের বাজার এখন পরিপক্ব। মোবাইল অপারেটরদের বিভিন্ন অফার গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গ্রাহকরা সত্যিই সতর্ক।

ভিম্পেলকম নিউ ইয়র্কের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। আগামী দিনে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশেও তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানান ভিম্পেলকমের সিইও।


মন্তব্য