kalerkantho


পণ্য পরিবহনসেবায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পণ্য পরিবহনসেবায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহনসেবা বা লজিস্টিকস বাজার হিসেবে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ‘এজিলিটি এমার্জিং মার্কেটস লজিস্টিকস ইনডেক্স’ প্রকাশ করেছে এজিলিটি গ্লোবাল ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিকস। এতে সহায়তা দিয়েছে ট্রান্সপোর্ট ইন্টেলিজেন্স।

জরিপ প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, উদীয়মান ৫০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম। গত বছরও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল। এ বছর বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ৪.৯৪ পয়েন্ট, গত বছর ছিল ৪.৯৬ পয়েন্ট। তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। এর পাশাপাশি ভারত একধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে এসেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরব। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সূচকটি তিনটি উপসূচকের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে।

উপসূচকগুলো হলো লজিস্টিক সেবার বাজারের আকার ও প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা, বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং এ সেবায় যোগাযোগ সক্ষমতা।

উপসূচকগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারের আকার ও প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনার দিক থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ উপসূচকে বাংলাদেশের পেয়েছে ৬.০৫ পয়েন্ট। বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায়ও মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। এ উপসূচকে পেয়েছে ৪.৫২ পয়েন্ট। তবে যোগাযোগ সক্ষমতায় হতাশ অবস্থানে রয়েছে। এতে পেয়েছে ৩.৮৫ পয়েন্ট। মূলত যোগাযোগ সক্ষমতা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে একটি দেশের পরিবহন সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে।

মূলত লজিস্টিকস সেবা একটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি অপরিহার্য সেবা, যা আমদানি-রপ্তানির জন্য কোনো দেশের ভেতর পণ্য পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পণ্য জাহাজীকরণ, মোড়কীকরণ, নিরাপত্তা, বর্ডার ক্লিয়ারেন্স এবং পেমেন্ট ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এ সেবা সরকারি ও বেসরকারি এজেন্ট দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে লজিস্টিক নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। যে দেশের লজিস্টিক সেবার মান যত ভালো, সেই দেশে ব্যবসার খরচ তত কম। সেই দেশের অর্থনীতিও তত দ্রুত উন্নতি করছে।

প্রতিবেদনে উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় লজিস্টিকস বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আরব দেশগুলো ও সাব-সাহারা ইথিওপিয়ার পরই বাংলাদেশের অবস্থান। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি এবং দুর্বল অবকাঠামো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। এর পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।  

বিশ্বের আট শর বেশি সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিকস নির্বাহীরা এ জরিপে তাঁদের মতামত দেন। এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের অন্যতম বৃহৎ লজিস্টিকস মার্কেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। যখন প্রশ্ন করা হয়েছে আগামী পাঁচ বছরে কোন দেশগুলো লজিস্টিকস বাজার হিসেবে সবচেয়ে প্রবৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রাখে, এতে ২ শতাংশেরও কম পেশাজীবী বাংলাদেশের পক্ষে মত দেন। ফলে ২০টি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৮তম হয়েছে। এতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় লজিস্টিকস বাজার হিসেবে শীর্ষে উঠে আসে প্রতিবেশী ভারত, দ্বিতীয় অবস্থানে চীন।

প্রতিবেদনে জিডিপির আকারের ভিত্তিতে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি জিডিপির দেশগুলোকে বৃহৎ উদীয়মান দেশ ও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কম জিডিপির দেশকে ছোট উদীয়মান দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছোট উদীয়মান ৩৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।

এজিলিটি বিশ্বের খ্যাতনামা লজিস্টিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অন্যতম। আর ট্রান্সপোর্ট ইন্টেলিজেন্স লজিস্টিকস বিষয়ে খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।


মন্তব্য