kalerkantho


বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ডিএসইর চট্টগ্রাম ও সিলেট অফিস!

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ডিএসইর চট্টগ্রাম ও সিলেট অফিস!

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তাদের চট্টগ্রাম ও সিলেট শাখা অফিস বন্ধ করে দেবে। এই অফিসগুলোর কর্মীদের ঢাকা হেড অফিসে যুক্ত করা হবে।

ইতিমধ্যে এসংক্রান্ত চিঠিও দেওয়া হয়েছে। ব্যয় কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে। ফলে ২০০৭ সালে অফিস দুটি চালুর ১০ বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ডিএসই সূত্র জানায়, অফিস বন্ধের কথা চট্টগ্রাম ও সিলেট অফিসের কর্মকর্তাদের প্রথম জানানো হয় গত বছরের ২৯ নভেম্বর। এদিন ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সৈয়দ আলামিন রহমান ফোনের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এ দুই অফিসের ইনচার্জদের ডিএসই বোর্ডের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। বন্ধের সময় উল্লেখ না করলেও সে সময় অফিসের কর্মীদের বিকল্প চাকরি খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে চিঠির মাধ্যমে লিখিতভাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অফিস দুটি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। যদিও পরে কর্মীদের প্রবল বিরোধিতার মুখে এ দুই অফিসের কর্মকর্তাদের ঢাকা অফিসে যুক্ত করার ব্যাপারে মৌখিকভাবে জানানো হয়। আগে কর্মীর সংখ্যা বেশি থাকলেও বর্তমানে চট্টগ্রাম অফিসে পাঁচজন এবং সিলেট অফিসে চারজন কর্মরত আছেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম ও সিলেট অফিস দুটি ২০০৭ সালের ২৫ নভেম্বর একযোগে উদ্বোধন করা হয়। এই অফিসগুলো থেকে আইটি সম্পর্কিত সমস্যা, ব্রোকারেজ হাউস মনিটর ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলো পরিচালনা করা হতো। যদিও আইটিসংক্রান্ত সমস্যা এখন ঢাকা থেকেই সম্পাদন করা হয়। ফলে পরিচালন ব্যয় কমাতে এবং শাখা অফিসগুলোর প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ায় এই অফিসগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই বোর্ড।

ডিএসই সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অফিস বন্ধের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল এই অফিসগুলোয় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা। কিন্তু মৌখিকভাবে চাকরিচ্যুতির কথা জানার সঙ্গে সঙ্গে এই অফিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি লিখিতভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) জানায়। বিএসইসি ডিএসইর প্রশাসনকে ডেকে ছাঁটাই পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এর পরেই এ দুই শাখা অফিসের কর্মকর্তাদের ঢাকা অফিসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেয়।

লোকসান কমানোর অজুহাতে ডিএসইর শাখা অফিস বন্ধের কথাও সেভাবে ধোপে টিকে না। কারণ ডিএসইর তুলনায় অনেক ছোট চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) চট্টগ্রামের হেড অফিস ছাড়াও ঢাকা এবং সিলেটে খুব সুসজ্জিত ও সমৃদ্ধ জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অফিস বন্ধের উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে আছে ডিএসইর সাবলেটের (এক ভাড়াটে কর্তৃক অন্য ভাড়াটেকে ভাড়া দেওয়া) জন্য। কারণ আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত শফি ভবনের দ্বিতীয় তলার পুরোটাই ভাড়া নিয়েছে ডিএসই। পরে তারা এই ফ্লোরে আরো ৯টি ব্রোকারেজ হাউস ও প্রতিষ্ঠানকে তা ভাড়া দিয়েছে। এই ভাড়ার চুক্তি হয়েছে ডিএসইর সঙ্গে। পাঁচ বছরের চুক্তির দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ৩১ মে। ডিএসই থেকে আর ভাড়ার চুক্তি নবায়ন না করার জন্য ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে শফি ভবনের মালিকের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। হঠাৎ করে ডিএসইর এ ধরনের সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করেছে ভাড়ার চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ভাড়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অফিস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে ডিএসইর এ ধরনের সিদ্ধান্তকে হঠকারী হিসেবেই দেখছেন শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে যেকোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা অফিস বন্ধের সিদ্ধান্ত বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বর্তমান ইন্টারনেট ও তথ্য-প্রযুক্তির যুগে লেনদেনসংক্রান্ত সব ধরনের সমস্যা ঢাকা অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ইতিমধ্যে ডিএসইর সিলেট অফিস বন্ধের বিরুদ্ধে সাড়ে ৩০০ বিনিয়োগকারীর স্বাক্ষর নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, ডিএসই, বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠি দিয়েছে সিলেট বিনিয়োগকারী ফোরাম। সংগঠনের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম জাকারিয়া এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিলেটে এখন অনেক ব্রোকারেজ হাউস। ফলে অভিভাবক সংস্থার একটি অফিস সিলেটে অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু ডিএসই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি শোনার পর গত ডিসেম্বরে আমরা বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছি; কিন্তু সেটারও কোনো জবাব পাইনি। ’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. সামিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনো ফাইনাল হয়নি। এটা আসলে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ সেখানে ডিএসইর কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া অফিসগুলো ভবন মালিকের সঙ্গে যাবে কি না, সেটাও দেখতে হবে। আমরা ভবন মালিকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আরো সময় লাগবে। ’

উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সৈয়দ আলামিন রহমান বলেন, ‘এটা আসলে অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ডিএসইর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অফিসগুলোকে চিঠি দিয়েছি তাদের চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো সময় লাগবে। ’ ডিএসই চট্টগ্রাম অফিসের ইনচার্জ ফরিদুল আলমের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


মন্তব্য