kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী

সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারে

সরকারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার সংস্কারের ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

আগামীতে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য জানতে চান, দেশের বেশির ভাগ মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করে বিদেশে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থপাচারের যেসব কাহিনি শোনা যায়, তা সবটা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে রংচং লাগানো হয়। বর্তমান সরকার অর্থপাচার বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার সংস্কারে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

আগামীতে আরো পড়বে। তিনি আরো বলেন, অনেকেই এখন পুঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিগুলোও পর্যায়ক্রমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ কমেনি, বিনিয়োগ হচ্ছে। বিশেষ করে বিগত বছরের তুলনায় এবার বিনিয়োগ বেড়েছে। বিনিয়োগ কমেছে এমন তথ্য ভুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ কমে গেছে। আগে বিনিয়োগকারীদের ইনসেনটিভ দেওয়া হতো, সেসব সুযোগ বর্তমানে বন্ধ আছে। ’

সংরক্ষিত আসনের সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমার লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক, এফআরবি নিউ ইয়র্ক এবং সুইফটের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে ফিলিপাইনেও আইনি প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে। সরকার বিষয়টিতে সতর্ক রয়েছে। চুরি যাওয়া সব টাকা ফেরত আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি আরেক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে জানান।

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকে অলস টাকা পড়ে আছে, বিষয়টি সঠিক নয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতির প্রথম ষান্মাষিক অন্তে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের (ঋণ) গতিধারা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রয়েছে। বিগত ডিসেম্বর ২০০৯ সালে ব্যাংকিং খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই লাখ ৪৬ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা গত ৩১ ডিসেম্বরে প্রায় ছয় লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সাত বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৭৮ শতাংশ।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাসিমা ফেরদৌসীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইস রক্ষিত ঋণ তথ্যের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে (নভেম্বর-২০১৬) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি ব্যক্তি বা কম্পানির সংখ্যা দুই লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ জন।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য বিমোচনে মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্ট (এমসিএ) থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেশন (এমসিসি) কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সুশাসন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং জনগণের জীবনমানের বিনিয়োগ—এই তিনটি বড় সেক্টরে ২০টি সূচক বা মানদণ্ড অর্জন করতে হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ সব সূচক অর্জন না করার কারণে এমসিএ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়নি। এমসিসি কর্তৃপক্ষের মতে, দুর্নীতি দমন সূচকে উত্তীর্ণ হওয়া অর্থসহায়তা প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১৯৫টি বিনিয়োগ এবং ১৫০টি কারিগরি প্রকল্পসহ মোট ৩৪৫টি বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এসব প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদেশি প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলমান এ প্রকল্পগুলোতে বিভিন্ন দাতা সংস্থা বা দেশ কর্তৃক মোট প্রতিশ্রুতিকৃত অর্থের পরিমাণ ৩১ হাজার ৮৬০ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সুদের হার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন কৃষিঋণ, ভুট্টাসহ কয়েকটি পণ্যে ৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেওয়া হয়। আর গবাদি পশু পালনে ৫ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেওয়া হয়। বাকি ঋণের সুদের হার ব্যাংক ঠিক করে।


মন্তব্য