kalerkantho


নির্মাণকাজের অনুমতি মিলবে ৬০ দিনে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নির্মাণকাজের অনুমতি মিলবে ৬০ দিনে

বিশ্বব্যাংক ঘোষিত ব্যবসা পরিবেশ সূচকে (ডুয়িং বিজনেস) আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে এক অঙ্কের ঘরে (৯৯তম) আনতে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণে ৬০ দিনের মধ্যেই অনুমোদন মিলবে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে এক বৈঠকে সময় কমিয়ে আনার বিষয়ে একমত হয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণে এখন একজন ব্যবসায়ীর সময় লাগে ২৬৯ দিন। ৬০ দিনের মধ্যে ভবন নির্মাণের অনুমতি দিতে পারলে সময় বাঁচবে ২০৯ দিন। এতে করে দেশি ও বিদেশি ব্যবসায় গতি আসবে বলে মনে করেন বিডা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণে অনুমতির সময় কিভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে গতকাল মন্ত্রণালয়ে বিডা ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অবকাঠামো নির্মাণে অনুমতি দিতে এখন যেসব প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়, সেগুলো আরো সহজ করা হবে। এমন অনেক প্রক্রিয়া আছে, যেগুলো অপ্রয়োজনীয়। সেগুলো কমিয়ে আনা হবে। রাজউকের সদর দপ্তরসহ আঞ্চলিক অফিসে একটি হেল্প ডেস্ক খোলা হবে। একইভাবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও হেল্প ডেক্স খোলা হবে।

এটা বাস্তবায়নে পূর্তসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি হবে। কমিটি প্রতি মাসে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।

বৈঠক শেষে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবকাঠামো নির্মাণে যে সময় লাগে, আমরা তা কমিয়ে আনতে চাই। এখন অনুমতি নিতে সময় লাগে ২৬৯ দিন। আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি, সময় কমিয়ে ৬০ দিনে নামিয়ে আনব। ব্যবসায়ীদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাদের জন্য অভিযোগ বাক্স থাকবে। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না সেটি প্রতি মাসেই নজরদারি হবে। ’

ব্যবসায় গতি আনতে সরকার গত বছর সেপ্টেম্বরে বেসরকারীকরণ কমিশন ও বিনিয়োগ বোর্ডকে একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) গঠন করে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান করা হয় সাবেক সচিব কাজী আমিনুল ইসলামকে। ব্যবসা পরিবেশ সূচকে বাংলাদেশকে এক অঙ্কের ঘরে আনতে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে সব সচিবকে নিয়ে দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করে বিডা। সেখানেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এরপর ব্যবসা পরিবেশ সূচকে উন্নতি আনতে যেসব মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত তাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক শুরু করে বিডা। তারই অংশ হিসেবে গতকাল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিডা।

বৈঠক শেষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। ’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসা পরিবেশ সূচক নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রতিবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান থাকে শেষের দিকে। এক নম্বরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ কোরিয়াও ওপরের দিকে রয়েছে। আমরা আমাদের অবস্থানকে এক অঙ্কের ঘরে আনতে চাই আগামী পাঁচ বছরে। ’

আমিনুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের পরিস্থিতি উন্নত করতে চাই। বর্তমানে বাংলাদেশে অবকাঠামো-সংক্রান্ত ভবন নির্মাণে অনুমতি লাগে ২৬৭ দিন। এটা এখনই কমিয়ে ৬০ দিনে নিয়ে আসতে চাই। ’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এটা বাস্তবায়নে পূর্তসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি হবে। কমিটি মাসে মাসে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এ বিষয়ে শিগগিরই রাজউকের সঙ্গে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের চেয়ারম্যান এম বজলুল কবীরও ছিলেন।


মন্তব্য