kalerkantho


পরবর্তী সরকারের জন্য ব্যাংকিং কমিশন গড়ে যাবেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পরবর্তী সরকারের জন্য ব্যাংকিং কমিশন গড়ে যাবেন অর্থমন্ত্রী

সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

অনেক দিন ধরে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে এলেও এখন এটা দরকার বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংক কম্পানি আইনের বিধিবিধান ও এসংক্রান্ত রীতিনীতি দেখার জন্য একটা ব্যাংকিং কমিশন দরকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এ কমিশন গঠন করা হবে।

যাতে নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। গতকাল রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যাংক খাত বেশ উন্নত, এর হয়তো দুর্বলতাও আছে। অনেকেই বলেন, একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা দরকার। আমি এত দিন পর্যন্ত সেই ধারণা গ্রহণ করিনি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের উচ্চবিলাস-অভিযাত্রাগুচ্ছে এমন কোনো সংকট কখনো জন্ম নেয়নি। ’ তিনি বলেন, ‘তবে আইন-কানুন, রীতিনীতি প্রভৃতি দেখার জন্য একটি ব্যাংকিং কমিশন দরকার। কিন্তু সেটার সময় এখনো হয়নি। তবে মেয়াদের শেষ দিকে এ বিষয়টি চিন্তা করতে পারি।

কমিশনের ধারণা আগামী সরকারের জন্য রেখে যেতে পারি। তখন ব্যাংকিং খাতের যে অবস্থা হবে, তখনই একটি কমিশন ব্যাংকিং খাতকে সুদৃঢ় পথে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করতে পারবে। ’

দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকিং খাতের প্রচলিত কার্যক্রম এবং এই খাতের সার্বিক অবস্থান মূল্যায়ন ও বিবেচনা করার জন্য ব্যাংকিং কমিশন গঠনের দাবি করে আসছে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিবিদরা।

সম্মেলনে ২০১৬ সালের সোনালী ব্যাংকের অর্জন ও ২০১৭ সালের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরা হয়। এ বছর ব্যাংকটির প্রতিপাদ্য বিষয়—‘ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। ’

মুহিত বলেন, ‘দেশের জন্মলগ্নের পর সামান্য কিছু মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা যথেষ্ট ছিল। আজকে এই সেবা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ পাচ্ছে। এদিক দিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ব্যাংকের ৯ হাজার ৫৭২টি শাখা নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি ব্যাংকিং সার্ভিস জনগণের কাতারে নিয়ে চলে গেছি। ’ অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকে মন্তব্য করেন দেশে অনেক ব্যাংক হয়েছে। এটা সমস্যা না। যখনই চাপে পড়বে স্বাভাবিকভাবেই মার্জার হতে থাকবে। এ জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোনালী ব্যাংক কিছুদিন আগেও সরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অধুনা এই অবস্থান থেকে একটু পেছনে পড়ে গেছে ব্যাংকটি। সাময়িক এই অবস্থা থেকে অতি সত্বর তারা আগের অবস্থান দখল করবে বলে আমার বিশ্বাস। ’

অর্থমন্ত্রী বলেন, সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন সূচক দেখে আশান্বিত হওয়ার সুযোগ নেই। মূলধন ঘাটতি সব ব্যাংকের মধ্য বেশি এই ব্যাংকের। খেলাপি ঋণ এক-চতুর্থাংশের বেশি। লোকসানি শাখাও এক-চতুর্থাংশের মতো। এসব সূচক খুব বেশি আশার সঞ্চার করে না। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের টার্গেট দিয়েছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাংক হতে হবে। এটা মস্তবড় চ্যালেঞ্জ, সোনালী ব্যাংকের এটি গ্রহণ করা উচিত। বৃহত্তম সরকারি ব্যাংক হিসেবে বাজারে সোনালী ব্যাংকের গ্রহণযোগ্যতাও উঁচুমানের। এই গ্রহণযোগ্যতা যেকোনো ব্যাংকের জন্য কৃতিত্ব ও মূলধন। এই মূলধনের ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে। মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকার সাহায্য করবে। শ্রেণীকৃত ঋণ কমানোর দায়িত্ব তাদের। যদিও সরকারি হুকুমে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের ঋণ দিয়েছে। ’

সরকার অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে অবস্থার উত্তরণ ঘটায় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাও এই চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। সরকার যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতো দক্ষ হতে পারে যদি তার সাহস থাকে এবং সেখানে যদি মানুষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। বাংলাদেশের সেই ক্ষমতা রয়েছে। সেটা আমাদের দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সরকারি ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার কমে এখন ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। খেলাপি ঋণ আদায়েও আশাব্যঞ্জক কোনো চিত্র নেই। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উৎপাদনশীল খাতে বেশি জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান ও সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ।

 


মন্তব্য