kalerkantho


২০ ব্যাংকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক

রেমিট্যান্স বাড়ানোর ব্যয় সিএসআরে সমন্বয় হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রবাসী আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তরণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার রেমিট্যান্স আহরণকারী শীর্ষ ২০ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে সংস্থাটি।

বৈঠকে উপস্থিত ব্যাংক কর্মকর্তারা অবৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা আরো সংকুচিত করার দাবি করেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই দাবিকে এখনই গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে না। কেননা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুরোধে বিদেশে দূতাবাসগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরও প্রবাসী আয় না বাড়লে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘রেমিট্যান্সপ্রবাহ কিভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য বসেছিলাম। তারা দাবি করেছে, যেহেতু হুন্ডিওয়ালারা ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশকে ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে টাকা দেশে পাঠাচ্ছে, সেহেতু বিকাশের ক্যাশ আউট বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু এ ধরনের দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্মতি দেয়নি। ’

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠাতে কেউ আর ব্যাংকিং চ্যানেলে যাচ্ছে না।

তারা খুব সহজে স্বল্প সময়ে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠানোর সেবা মাসুল কর্তন করা যায় কি না বা ব্যাংকগুলো যেসব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে, তাদের চার্জ বেশি কি না—এসব বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া মুদ্রা বিনিময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে অনেক সময় দর কম থাকে। এতে প্রবাসীরা কম আগ্রহ দেখায়। এ প্রসঙ্গে এস কে সুর চৌধুরী বলেন, যদি কোনো ব্যাংক ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্সে বিনিময় হার নির্ধারণে বিশেষ প্রণোদনা দিতে চায়, তাহলে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের জন্য করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, বৈঠকে সব ব্যাংক মিলে অভিন্ন নেটওয়ার্ক স্থাপনে বিকাশকে ব্যবহারের প্রস্তাব উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশে ৬২২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের (২০১৫-১৬) অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৭৩৩ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের সাত মাসে রেমিট্যান্স ১১১ কোটি ডলার বা ১৫.১৪ শতাংশ কম এসেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স কম এসেছিল ২.৫৫ শতাংশ।


মন্তব্য