kalerkantho


জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স বাড়লেও সার্বিক প্রবাহে ভাটার টান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স বাড়লেও সার্বিক প্রবাহে ভাটার টান

রেমিট্যান্স কিছুটা বেড়েছে নতুন বছরের প্রথম মাসে। গত জানুয়ারিতে ১০১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা।

গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) মোট ৭২৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৬৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে আগের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ১৫.৭৫ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই হার ছিল ১৭.৬ শতাংশ।

অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রতি মাসে ১০০ কোটি ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স আসছিল। তবে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল যথাক্রমে ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার ও ৯৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত পাঁচ বছরে আর কোনো মাসে এত কম রেমিট্যান্স আসেনি। সর্বশেষ ২০১১ সালের নভেম্বরে প্রবাসীরা ৯০ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিল।

সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দর পড়ে যাওয়া এবং মুদ্রা বিনিময়হারসহ কিছু কারণে রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে। তবে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই আবার রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করবে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি মুদ্রা ভাঙিয়ে টাকার রূপান্তর করতে গেলে এখন তুলনামূলক কম অর্থ পাওয়া যায়। এ কারণে বেশি লাভের আশায় অনেকেই অবৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পথ বেছে নিচ্ছে। তা ছাড়া দেশের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নাম ব্যবহার করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান হুন্ডিতে সহায়তা করছে। এ জন্য গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর দুবাইয়ে অবৈধ পথে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোয় ২৫ দোকানকে জরিমানা করেছে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ডলারের বিপরীতে পাউন্ড, ইউরো, রিঙ্গিত, সিঙ্গাপুরি ডলারসহ প্রভৃতি মুদ্রার মূল্যমান কিছুটা কমে গেছে। ফলে এসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠালে তাদের স্বজনরা আগের থেকে কিছু কম টাকা পাচ্ছে।

এসব কারণে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় তত্পর হয়ে উঠেছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী আয় বেশি আসে এমন ৩০টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আগামী রবিবার সভা করবে সংস্থাটি। তা ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডির অর্থ স্থানান্তর বন্ধে সম্প্রতি এই সেবার লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন সীমা কিছুটা কমিয়ে এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে ওই সভায় উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রেমিট্যান্স কমার কারণ জানতে বাংলাদেশি শ্রমিক অধ্যুষিত চার দেশে যাবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা। চলতি মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাবে। মুদ্রানীতি ঘোষণার ওই অনুষ্ঠানে গভর্নর এ কথা জানিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করতে বাংলাদেশি শ্রমিক অধ্যুষিত কয়েকটি দেশে সফর করবেন। প্রতিনিধিদল দেশে ফিরে রেমিট্যান্স কমার কারণ সম্পর্কে গবেষণামূলক প্রতিবেদন জমা দেবে।


মন্তব্য