kalerkantho


চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ সমস্যা চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ সমস্যা চিহ্নিত

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস দিয়ে কম খরচে ও কম সময়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিত করতে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো সমাধান করতে একটি অ্যাকশন প্ল্যান চূড়ান্ত করে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘পোর্ট ডিক্লারেশন’। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে সকাল থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা বিরতিহীন বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠকে এসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।

চিহ্নিত সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের অপারেশন সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকে নিয়ে একটি ‘পোর্ট-কাস্টমস অপারেশনাল কমিটি’ গঠন করা, পণ্য আমদানি-রপ্তানি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে শনি থেকে বৃহস্পতিবার সপ্তাহে ছয় দিন বন্দর-কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা এবং সকাল ৯টা থেকে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করা, চট্টগ্রাম কাস্টমসের জনবল সংকট দ্রুত নিরসন করা, কাস্টমসের এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস) এবং সব ইপিজেডকে সংযোগ স্থাপন, দ্রুত পণ্য খালাসে সৎ ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে ‘গ্রিন চ্যানেল পদ্ধতি’ চালু করা, জরুরি ভিত্তিতে বন্দরের সব গেটে স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, বন্দরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা অকশন শেড ও কার শেড এক মাসের মধ্যে চালুর পদক্ষেপ নেওয়া ও গতিশীলতা বাড়াতে অতি দ্রুত বন্দরের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা।  

ঋণপত্র খোলার সময় পণ্যের যাবতীয় বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা এবং তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করবে, একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পোর্ট-কাস্টমস সিস্টেমের সংযোগ স্থাপন। পণ্য আমদানিতে রিস্ক ম্যানেজমেন্টের আওতায় তদারকি বাড়ানো এবং ভালো ও অসৎ ব্যবসায়ী সিঅ্যান্ডএফ আমদানিকারকের একটি তালিকা তৈরি করা। বন্দর ও কাস্টমসের সব গোয়েন্দাকে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করা। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আরো বেসরকারি কনটেইনার ডিপো স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি ধরে রাখতেই আমরা অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ১৫টি পয়েন্ট চূড়ান্ত করেছি। এগুলো লিখিত আকারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বন্দরের মাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সচিব ও মন্ত্রী মহোদয়ের অনুমোদনের পর আমরা বাস্তবায়ন কাজ শুরু করব। ’

ফরিদ উদ্দিন আরো বলেন, ‘পরবর্তী সভায় প্রতিটি পয়েন্ট বাস্তবায়নে আমরা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেব। এসব পদক্ষেপ কার্যকর করতে পারলে বর্তমানের চেয়ে কম সময়ে, কম খরচে পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সহজ হবে। ’

এই পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নিতে ফরিদ উদ্দিন সব ব্যবহারকারীর সঙ্গে জোরালো সমন্বয়ের তাগাদা দেন। অনুষ্ঠানে সবাই সমন্বয়ের জোর তাগিদ দেন।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিকরুর রেজা খানম বলেন, আজকে যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হলো, সেগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ একমত। সরকার চাইছে আমদানি-রপ্তানির প্রক্রিয়াগুলো আরো সহজ করতে। সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে বন্দর ও কাস্টমসের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল খালেদ ইকবাল বলেন, ‘সৎ ব্যবসায়ীরা যাতে এসব সুবিধা পায় তা আমি নিশ্চিত করব, একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হব। ’

অনুষ্ঠানে কাস্টমস কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খান বলেন, ২৪ শতাংশ জনবল দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস চলছে। কাস্টমসের জনবল সংকট কমানো গেলে আজকের সমস্যার ৭৫ শতাংশই সমাধান সম্ভব।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন পরিচালক সাহেদ সারোয়ার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু, কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আমীরুল ইসলাম ও পরিচালক খায়রুল আলম সুজন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দেন।


মন্তব্য