kalerkantho


বিনিয়োগ বাড়াতে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিনিয়োগ বাড়াতে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি

প্রতিবেশী দেশগুলো অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিপুল বিনিয়োগ টানছে। তাই বাংলাদেশও যদি তাদের উন্নয়ন লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে যেতে চায় তবে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘পরিকল্পিত অবকাঠামো সুবিধার সুযোগ নিয়ে বিশ্ববাজারে আমাদের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে। ’ তাই সড়ক, রেলওয়ে এবং বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিশ্চিত জ্বালানির ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিসিসিআইয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আবুল কাসেম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, সহসভাপতি হোসেন এ সিকদার, পরিচালক আসিফ এ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম প্রমুখ।

ডিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সরকার দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি পোশাকশিল্পের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়। এ জন্য অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ জিডিপির ২.৮৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে হবে ৮ শতাংশের ওপরে।

পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

আবুল কাসেম খান বলেন, সরকারের এসব লক্ষ্য পূরণে শিল্প খাতের উন্নয়ন করতে হবে। আর শিল্প খাতের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নতি দরকার। তা করতে হবে পরিকল্পিতভাবে। এ ক্ষেত্রে সড়ক, রেলওয়ে, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নে অপচয় কমাতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য বেসরকারি খাতকে অবকাঠামো উন্নয়নে সংযুক্ত করা যেতে পারে। অবকাঠামো খাতে উন্নতি করতে পারলে অর্থনীতিতেও ব্যাপক উন্নতি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে ১৯৭৫ সালেও ভিয়েতনামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সেই দেশটি এখন অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নতি করেছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেদিকে ঝুঁকছে। আমাদেরও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ভিয়েতনাম যেখানে অবকাঠামো খাতে জিডিপির ১০ শতাংশ বিনিয়োগ করছে, সেখানে আমাদের বিনিয়োগ ২.৮৭ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডেও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের হার অনেক বেশি। বর্তমান সরকার অবশ্য ধীরে ধীরে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার যেমন এ খাতের উন্নতি করেছে, অবকাঠামো খাতকেও সেভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। ’ জ্বালানি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আবুল কাসেম খান বলেন, বাপেক্সকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কয়লানীতি সংস্কারের মাধ্যমে নিজস্ব কয়লা দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে হবে। আমদানি করা কয়লা দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে গেলে খরচ অনেক বেশি পড়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে জ্বালানি চাহিদা অনেক। এ চাহিদা পূরণে নিজস্ব খনির সন্ধান বাড়াতে হবে। শুধু বাপেক্সকে শক্তিশালী করলেই হবে না, কয়লানীতিরও সংস্কার করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নতির শিখরে যেতে হলে নিশ্চিত জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নত অবকাঠামো ও জ্বালানির নিশ্চয়তা পেলে বেসরকারি খাতই কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এতে সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোও পূরণ হবে। ’

আবুল কাসেম খান বলেন, সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে যেসব খাতে, তার মধ্যে রয়েছে মহাসড়ক, টোল রোড ব্যবস্থা এবং এক্সপ্রেসওয়ে উন্নতকরণ, রেলপথে যোগাযোগ, নৌপথে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৮৮ শতাংশ মানুষ যোগাযোগব্যবস্থার জন্য সড়কপথ ব্যবহার করে, সেখানে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ রেল এবং ৮ শতাংশ মানুষ নদীপথ ব্যবহার করে। নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেল এবং নৌ যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এবং মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কারণে ঢাকা শহরে মানুষ স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করতে পারছে না। তাই ঢাকাভিত্তিক প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি।

ঢাকা চেম্বারের পরামর্শ হচ্ছে, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার মতো অবকাঠামো খাতে বন্ড ছাড়তে পারে। ভিয়েতনামের মতো জ্বালানি এবং যোগাযোগ খাতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। ভারতের মতো হাইব্রিড পিপিপি চালু করতে হবে এবং বিদ্যুৎ খাতের মতো যোগাযোগ খাত উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।


মন্তব্য