kalerkantho


মতবিনিময় সভায় ব্র্যাকের কর্মকর্তারা

কম খরচে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাবে ব্র্যাক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কম খরচে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাবে ব্র্যাক

মতবিনিময় সভায় ব্র্যাকের কর্মকর্তারা

জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় নামছে উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। আগামী মার্চ থেকে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে ‘ব্র্যাক প্রবাস বন্ধু’। প্রাথমিকভাবে এসব জেলার ৯টি উপজেলা থেকে দক্ষ পুরুষ ও নারী শ্রমিক বিদেশে পাঠানো হবে। এ জন্য রিক্রুটিং লাইসেন্স নিয়েছে ব্র্যাক। অভিবাসন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে সংস্থাটি সামাজিক পরিবর্তন আনতে চায়। গতকাল কারওয়ান বাজারে হোটেল লা ভিঞ্চিতে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) অ্যান্ড ফিউচার’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আসিফ সালেহ, পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ এবং ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল বায়েস।

দেশের অভিবাসন খাত নিয়ে কয়েক বছর থেকে ব্র্যাক গবেষণা করছে উল্লেখ করে আসিফ সালেহ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, শ্রমশক্তি হিসেবে বিদেশ গমনে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমরা দালালচক্র থেকে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে স্বল্প খরচে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা করছি। ব্র্যাক রিক্রুটিং লাইসেন্স নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা সামাজিক পরিবর্তন আনতে চায়। তারা ‘কস্ট অব মাইগ্রেশন’ কমাবে। ’ তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ তরুণকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে ব্র্যাক। সফলভাবে উত্তীর্ণদের মধ্যে ৮০ শতাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে ব্র্যাক। তাদের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাঠাতেও উদ্যোগ নেবে এই এনজিও। এদিকে দাতা নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানানো হয়। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ব্র্যাক। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় ৭০ শতাংশ অর্থায়ন করছে ব্র্যাক। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এই অর্থায়ন ৯০ শতাংশে উন্নীত করার ব্যাপারে তারা দৃঢ়প্রত্যয়ী। এ জন্য সামাজিক ব্যবসাগুলোকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে এ উন্নয়ন সংস্থাটি। বর্তমানে ১৫টি সামাজিক উদ্যোগ রয়েছে ব্র্যাকের। বিশ্বের ১২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। শিগগিরই তারা আফ্রিকার পাঁচটি দেশে কার্যক্রম শুরু করবে ব্রাক। এ ছাড়া নেপাল ও মিয়ানমারে তাদের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে।

আসিফ সালেহ বলেন, অর্থায়ন নিয়ে নানা সংকটের মধ্যে আছে দেশের এনজিওগুলো। বিশেষ করে ব্রেক্সিট-পরবর্তী পাউন্ডের দরপতনে ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডির অর্থসহায়তাপুষ্ঠ এনজিওগুলো ২০ শতাংশের বেশি মুদ্রা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের মতো বাংলাদেশেও এনজিও প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। ব্র্যাক আন্তর্জাতিক সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার চেয়ে কর্মীদের কম বেতন দেওয়া হয় কেন—জানতে চাইলে কে এ এম মোর্শেদ বলেন, ‘ব্র্যাকে আন্তর্জাতিক এনজিওদের চেয়ে বেতন কম, তবে দেশীয় এনজিওর সমপর্যায়ের কিংবা ক্ষেত্রবিশেষ বেশি। ’


মন্তব্য