kalerkantho


বেসিস সফটএক্সপোতে স্পিকার

সফটওয়্যার খাতের উন্নয়নে প্রণোদনা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সফটওয়্যার খাতের উন্নয়নে প্রণোদনা প্রয়োজন

বেসিস সফটএক্সপোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি : কালের কণ্ঠ

আইসিটিবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সফটওয়্যার খাতকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, সফটওয়্যার ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রত্যেকের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। এখন প্রয়োজন প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও বিনিয়োগ।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত সফটএক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক। বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বেসিসের পরিচালক ও প্লাটিনাম স্পন্সর মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির এবং বেসিসের পরিচালক ও বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭-এর আহ্বায়ক সৈয়দ আলমাস কবীর।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সফটওয়্যার খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখন সময় এসেছে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সঙ্গে সফটওয়্যার খাতকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার। তিনি বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি খাত বর্তমান সময়ে সব সমাজের উন্নয়নের চালিকাশক্তি। বেসিস ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তথ্য-প্রযুক্তিতে নতুন পরিবেশ তৈরি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে। তাদের এই যাত্রাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে এখন প্রয়োজন প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও বিনিয়োগ।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পৃথিবীতে এখন তথ্য-প্রযুক্তি খাত তিন ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের। তাই সেই বাজার ধরার পাশাপাশি আইসিটি খাতের আয় বাড়াতে স্থানীয় বাজারকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় চাহিদা পূরণে কাজ করার পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়াতে হবে। এ জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বেসিসকে সম্ভাব্য সব সহায়তা করবে।

আইসিটি পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তার প্রস্তাব করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে বেসিসকে সঙ্গে নিয়ে সফটওয়্যার খাতে ২০১৮ সাল নাগাদ এক বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে এ খাতে এক মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আইসিটি শিল্প গড়ে তোলার কাজ চলছে। আইসিটি খাতে সবচেয়ে বড় প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই খাতে ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। দেশের তরুণরা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্য থেকে উদ্যেক্তা তৈরি করার লক্ষ্যেই সফটএক্সপোর আয়োজন করা হয়।

বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৯৯৭ সালে বেসিস যাত্রা শুরু করে। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বেসিস এখন তথ্য-প্রযুক্তিতে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সফটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বেসিস সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুসারে এখাতে আয় ৫৯৪ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি আয় যোগ করলে রপ্তানি আয় ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এই হিসাবের পার্থক্যের কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সি-ফরম। এই ফরমে ৯ হাজার ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত যারা উপার্জন করে তাদের তালিকভুক্ত করা হয় না। এ ছাড়া সফটওয়্যার সেবা খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে যুক্ত হয় না। পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার উপার্জন আইসিটি খাতে পাঁচ বিলিয়ন ডলার উপার্জনের সমান। এতে মেধার শ্রম রয়েছে। একদিন সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত হবে আইসিটি।

প্রদর্শনীর প্লাটিনাম স্পন্সর মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসিসের পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, মাইক্রোসফট বাংলাদেশেও প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানি হিসেবে দেশীয় সফটওয়্যার সম্প্রসারণে সহযোগিতা করে আসছে। এই প্রদর্শনীতে শিশুদের কোডিং শেখানোর জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। এতে ৪০০ শিক্ষার্থীকে কোডিংয়ের প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে ৫০০ জন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করে নিয়ে আসবে মাইক্রোসফট। এ লক্ষ্যে পুরোদমে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণে এই এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। এতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনী এলাকাকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতে ৩০টির বেশি সেমিনারে দেশ-বিদেশের তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দেশের সফটওয়্যারের নিজস্ব চাহিদা পূরণে সক্ষমতা প্রদর্শন ও আস্থা তৈরির জন্যই এ প্রদর্শনীর আয়োজন।

আয়োজকরা জানান, ২০০২ সাল থেকে ‘বেসিস সফটএক্সপো’ আয়োজন করা হচ্ছে। যদিও মাঝে কয়েক বছর এটি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতো। এখন এটি আলাদাভাবে আয়োজন করা হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সফটওয়্যার ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা, সাফল্য দেখানোর পাশাপাশি আইসিটি খাতের উন্নয়নে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেমিনার, কর্মশালাসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে।

এই প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইটি সংগঠন, স্থানীয় সফটওয়্যার কম্পানিসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য-প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে।

বেসিস সূত্র জানায়, এ বছর প্রদর্শনী এলাকাকে বিজনেস সফটওয়্যার জোন, আইটিইএস এবং বিপিও জোন, মোবাইল ইনোভেশন জোন ও ই-কমার্স জোন—এই চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা প্রসারে রয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিজনেস ম্যাচমেকিং সেশন।

এবারের সফটএক্সপোতে তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে অন্তত ২০টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলের মিডিয়া বাজার ও উইন্ডি টাউন হলে এসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সফটএক্সপোতে তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ১০টির অধিক টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে বেসিস সফটএক্সপোতে আন্তর্জাতিক বিজনেস টু বিজনেস ম্যাচমেকিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীর প্রথম দিন বিকেল ৩টা থেকে এই বিটুবি ম্যাচমেকিং অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের চাকরির সুযোগ দিচ্ছে ‘এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি’ শীর্ষক আয়োজন। বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহযোগিতায় দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের যথোপযুক্ত জনবল খুঁজে নিতে অংশগ্রহণ করবে। প্রগ্রামিং, ডিজাইন, মার্কেটিং, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউনটিংসহ বিভিন্ন পদের জন্য আগ্রহীরা সিভি জমা দিতে পারবেন।


মন্তব্য