kalerkantho


গ্রামীণ অর্থনীতি প্রাধান্য দিয়ে ভারতে নতুন বাজেট

বাণিজ্য ডেস্ক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গ্রামীণ অর্থনীতি প্রাধান্য দিয়ে ভারতে নতুন বাজেট

বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের ডিজিটাল বোর্ডে অরুণ জেটলির বাজেট প্রস্তাব দেখছেন এক বিনিয়োগকারী

২০১৭-১৮ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ২১.৪৭ লাখ কোটি রুপি ব্যয় ধরে নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে দরিদ্র জনগণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে।

গতকাল বুধবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কালো টাকার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বড় নোট বাতিলের ফলে মানুষের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতেই এবারের বাজেটে দারিদ্র জনগণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

অরুণ জেটলি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো তৈরি ও দারিদ্র্য দূরীকরণে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। অর্ধেক কমানো হয়েছে আয়কর, ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের করও কমানো হয়েছে। ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্যের ৯৬ শতাংশই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে কিছু পরিমাণ সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। কিছুদিন পরই ভারতে পাঁচটি অঞ্চলে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না, তা এ নির্বাচনে জয়ের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। তাই নির্বাচনকে ঘিরেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে মোদি বলেন, এ বাজেট গ্রামীণ, কৃষক ও দরিদ্র শ্রেণির মঙ্গলের জন্য করা হয়েছে।

যদিও বর্তমান সময়ে ভারতকে ভাবা হচ্ছে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে। কিন্তু অরুণ জেটলি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভারতের অর্থনীতির জন্য কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সুরক্ষানীতির প্রবণতা।

মূলত কালো টাকার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে মোদি ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট নিষিদ্ধ করেছিলেন, যা দেশের মোট লেনদেনের ৮৬ শতাংশ। এতে ভোক্তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে। জেটলি বলেন, ‘আমি আশা করছি, অর্থনৈতিক এ সমস্যা আগামী অর্থবছরে থাকবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরে কমে হবে ৬.৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে হবে ৭.৫ শতাংশ। ’ জেটলি মূলধন বিনিয়োগ ২৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ ও ব্যবসা উন্নয়নে ব্যয় ২৪ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৮ শতাংশ। তবে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যাংক খাতের উন্নয়নে আলাদা বরাদ্দ নেই।

এবারের বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। যাদের বার্ষিক আয় দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ রুপির মধ্যে তাদের এই কর দিতে হবে। যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেনে ৫০০ মিলিয়ন রুপি পর্যন্ত তাদের কর ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে বিদেশি বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড বাতিল করা হবে। নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে ভারতের অবস্থান আরো উন্নত করবেন।

কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ লাখ কোটি রুপি। এ খাতে প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে ৪.৬ শতাংশ। এফডিআই বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। জানুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩৬১ বিলিয়ন ডলার। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি মিলে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ২২৩ কোটি রুপি, যা আগের বছরের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ২০১৯ সাল নাগাদ দরিদ্রদের জন্য এক কোটি ঘর নির্মাণেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে।

 


মন্তব্য