kalerkantho


চার দিনে ডিএসইতে মূলধন কমল ১২৩২৪ কোটি টাকা

রফিকুল ইসলাম   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চার দিনে ডিএসইতে মূলধন কমল ১২৩২৪ কোটি টাকা

২০১০ সালের ডিসেম্বরে মূল্যপতনের পর গত ছয় বছরে আর আগের অবস্থানে ফেরেনি পুঁজিবাজার। নতুন নতুন কম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ ও বাজার মূলধন ছিল অপ্রতুল। দৈনিক লেনদেনও আটকে ছিল ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার ঘরেই। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন গতি ফিরে পাওয়া বাজারে পুঁজি হারানো অনেক পুরনো বিনিয়োগকারী পোর্টফোলিওতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা শেয়ার নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। তবে ক্রমাগত সূচক বাড়তে থাকা বাজার আবারও পতনবৃত্তে ফিরেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে দৈনিক লেনদেন অর্ধেকের নিচে নেমেছে। শেয়ার হাতবদল কমার সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধনও। চার কার্যদিবসে (২৪-৩০ জানুয়ারি) বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার কোটি টাকা। লেনদেনে শেয়ারের হাতবদল কমেছে প্রায় ৩৬ কোটি।

প্রলুব্ধ বিনিয়োগকারীর ক্ষতি ঠেকাতে পুঁজিবাজারে গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কঠোর নজরদারির ঘোষণার পর থেকেই লেনদেন ও মূল্যসূচক কমতে থাকে। দাম কম হলেও বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে শেয়ার ছেড়ে দেয়। টানা দুই দিন ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি অব্যাহত বিক্রির চাপে মূল্যসূচক কমে আসে। লেনদেনও কমে যায়। এই সময়ে বাজার মূলধন কমে ৯ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। আর দৈনিক শেয়ার হাতবদলের সংখ্যা কমেছে ৯ কোটি ৩১ লাখ। তবে ২৪-৩০ জানুয়ারি সময়ে চার দিনে বাজার মূলধন করেছে ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা আর শেয়ার হাতবদল কমেছে ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫২টি। সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গল ও বুধবার আর্থিক খাতের (ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) শেয়ারে ভর করেই আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পুঁজিবাজার। তবে মূল্যসূচক বাড়লেও কমেছে দৈনিক লেনদেন।

ডিএসইর এক পরিচালক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন পর ঊর্ধ্বমুখী হয়ে সঠিক পথে চললেও নেতিবাচক মন্তব্যে আবারও তলানিতে নামতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা আশাহত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দূরে সরছে। নেতিবাচক মন্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট হলে বাজার ক্রমাগতভাবেই কমতে থাকে। স্থিতিশীল হলে আবারও বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হবে। ’

ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ার চিত্র : তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৪-৩০ জানুয়ারি সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ৩২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২৪ জানুয়ারি ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৭৭ হাজার ১৭২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তবে ৩০ জানুয়ারি এই মূলধন কমে দাঁড়ায় তিন লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তবে বাজার নিয়ে কঠোর নজরদারির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্যের পর লেনদেন ও মূল্যসূচকের সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধনও। মুদ্রানীতি ঘোষণার আগের দিন বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৭৪ হাজার ১১৬ কোটি ৬৯ হাজার টাকা। মুদ্রানীতি ঘোষণার দিন সূচক কমার সঙ্গে বাজার মূলধন কমে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ওই দিন বাজার মূলধন পাঁচ হাজার ৫০৩ কোটি ২০ লাখ টাকা কমে দাঁড়ায় তিন লাখ ৬৮ হাজার ৬১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় দিনের পতনের দিন বাজার মূলধন তিন হাজার ৭৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকা কমে দাঁড়ায় তিন লাখ ৬৪ হাজার ৮৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ২৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

গত ২৩ জানুয়ারির পর থেকেই শেয়ার লেনদেন কমে যায়। ওই দিন ডিএসইতে ৭০ কোটি ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ১২৩টি শেয়ার লেনদেন হয়। তবে এই সময়ের পর থেকেই ক্রমাগতভাবেই কমেছে শেয়ার লেনদেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার ২৬ কোটি ৬৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার লেনদেন হয়। সেই হিসাবে ছয় কার্যদিবসে লেনদেনকৃত শেয়ারের সংখ্যা কমেছে ৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫৭টি। প্রতিদিনই গড়ে সাত কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার ৯০৯টি শেয়ারের হাতবদল কমেছে। যার মধ্যে মুদ্রানীতি ঘোষণার দিন থেকে তিন কার্যদিবসে ৯ কোটি ৩১ লাখ শেয়ারের হাতবদল কমেছে।

বাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তলানি থেকে বাজার ক্রমাগত উঠে আসায় বড় ধরনের সংশোধন হচ্ছে। এই সংশোধনকে কেউ কেউ অস্বাভাবিক বললেও স্বাভাবিক নিয়মেই বাজার সংশোধন হচ্ছে। কারণ ক্রমাগত ও অস্বাভাবিক গতিতে অনেক ওপর উঠেছিল বাজার। ’


মন্তব্য