kalerkantho


ব্যবসা পরিবেশ সূচক এক অঙ্কে আনতে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যবসা পরিবেশ সূচক এক অঙ্কে আনতে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা

বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা পরিবেশ সহজীকরণ বা ডুয়িং বিজনেস সূচকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে এক অঙ্কের ঘরে (১০০-এর নিচে) আনতে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশের তলিকায় যেতে হলে ২০২১ সালের পরে সময় পাওয়া যাবে ২০ বছর। আর সেই লক্ষ্যে যেতে প্রয়োজন ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি। প্রয়োজন ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করা। ব্যবসায়িক সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে বিনিয়োগ আসবে। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও বিদেশি দুই ধরনেরই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাশেম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জহির উদ্দিন আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইসুল আলম মণ্ডলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিডা চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই সভাপতি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক ঘোষিত ডুয়িং বিজনেস সূচকে ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সূচককে এক অঙ্কের ঘরে বা ৯৯তম অবস্থানে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় লাগে। এরপর জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশের ছাড়পত্র পেতে হয়রানি, গ্যাস-বিদ্যুত্ সংযোগ না পাওয়াসহ ১০ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় একজন ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়, এখন থেকে ব্যবসা শুরু করতে একজন ব্যবসায়ীর মাত্র সাত দিন সময় লাগবে। আগে সাড়ে ১৯ দিন সময় লাগত। অবকাঠামো তৈরির অনুমোদন পেতে আগে যেখানে ২৭৮ দিন লাগত, এখন সেখানে ৬০ দিন সময় লাগবে। বিদ্যুত্ সংযোগ পেতে এখন সময় লাগবে মাত্র ২৮ দিন। আগে এর জন্য সময় ব্যয় করতে হতো ৪০৪ দিন। এখন থেকে ব্যবসা শুরুর জন্য স্থাবর সম্পদের দলিল করে নামজারি করতে অল্প কয়েক দিন লাগবে। ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জন্য সিআইবি প্রতিবেদন প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে মিলবে ব্যাংক ঋণও। সংখ্যালঘুদের বিনিয়োগ রক্ষা করা হবে। সীমান্ত বাণিজ্য আরো সহজ করা হবে। আইনি জটিলতা কমানোর জন্য এ বিষয়ে আলাদা বেঞ্চ, হাইকোর্ট ডিভিশন গঠন করা হবে। আর এ বিষয়ে প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে দিয়ে তা জনগণকে অবহিত করার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব করার পাশাপাশি ব্যবসা শুরু ও বর্ধিত করার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করারও ব্যবস্থা নিয়েছে বিডা।

সংবাদ সম্মেলনে মাতলুব আহমাদ বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে দুই-তিন জায়গায় বাধা পেতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা নীতি বারবার পরিবর্তন। যেকোনো নীতি পরিবর্তন করতে হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় দিতে হবে। কারণ একটা ব্যবসা বড় হতে কমপক্ষে দুই বছর থেকে তিন বছর লাগে। সরকারের কাছে তিনি জোর দাবি করেন এসআরওর মাধ্যমে নীতি যেন ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে না যায়।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, ‘আমরা বিদেশে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের এ দেশে নিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের যদি ব্যবসার পরিবেশ দিতে না পারি তাহলে সেটা খুব খারাপ হবে। তাদের না আনার চেয়েও সেটা ক্ষতিকর। ’ তিনি বলেন, দেশে কালো টাকার পরিমাণ কত তা মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া দেশ থেকে কারা টাকা পাচার করছে, কিভাবে করছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। আর খেলাপি ঋণ রোধের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

আবুল কাশেম বলেন, বর্তমানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) দিক থেকে এশিয়া সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। এ ছাড়া চীন থেকে যেসব বিনিয়োগ চলে যাচ্ছে সেগুলো বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আর এর মধ্যে বাংলাদেশকেও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বিদেশিরা। আর এ প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে দেশের ব্যবসার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো দূর করতে হবে।

জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য যা করা দরকার সবই করার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন কম্পানি আইন পরিমার্জন, পরিবর্তন ও সংশোধনের কাজ চলছে। এটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ আইন সংসদে উঠবে বলে আশা করেন তিনি।

রইসুল আলম মণ্ডল বলেন, পরিবেশগত ও অবস্থানগত দুটি বিষয়ের ওপর লক্ষ রেখে অধিদপ্তর ছাড়পত্র দিয়ে থাকে। ছাড়পত্র পাওয়ার সময়সীমা এখন কমে এসেছে। এখন সাত থেকে ১৫ কর্মদিবস লাগে। এ ছাড়া অনলাইনে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। যা ব্যবসা শুরু করার জন্য খুবই সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।


মন্তব্য