kalerkantho


ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি কঠিন হয়ে উঠছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি কঠিন হয়ে উঠছে

ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সংবাদ সম্মেলন

ভারতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ২৯.৬ শতাংশ যায় পাটপণ্য। কিন্তু দেশটি এরই মধ্যে প্রতি টন পাটপণ্যে ১৯ থেকে ৩৫১ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করেছে।

ফলে ভারতে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

মাতলুব আহমাদ বলেন, এতে ভারতে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতিও অনেক বেড়ে যাবে। তা ছাড়া ভারতের এই অ্যান্টি ডাম্পিং পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগানো জরুরি।

গতকাল মঙ্গলবার ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মাতলুব আহমাদ এসব কথা বলেন। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শফিউল ইসলাম, সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, পরিচালক শেখ ফজলে ফাহিম, দিলীপ কুমার আগারওয়ালা, প্রবীর কুমার, হারুন উর রশীদ, হোসনে আরাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠিন ও সাহসী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ক্রমেই বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অন্যথায় বিনিয়োগে গতিসঞ্চার করা সম্ভব হবে না। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমাতে মুদ্রানীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা থাকা দরকার ছিল। তিনি বলেন, এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে ব্যাংক টিকে থাকতে পারবে না। তাই এ ব্যাপারে শক্ত হতে হবে। কিছুতেই এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।

মাতলুব আহমাদ বলেন, ২০১৬ সালের ৩০ জুন খেলাপি ঋণ ৬৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছিল। যা বর্তমানে আরো বেড়েছে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতি সমাধান না করলে ভালো ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) দ্বিতীয়ার্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতের জন্য বিনিয়োগবান্ধব হলেও এখানে কিছু ঘাটতি রয়েছে। মুদ্রানীতি ঘোষণায় বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি, সরকারের ঋণ গ্রহণে সতর্কতা এবং মূল্যস্ফীতি কমাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১৬ শতাংশের পরিবর্তে কমপক্ষে ১৭ শতাংশ করা হলে তা আরো বিনিয়োগ সহায়ক হতো। তিনি বলেন, সরকার দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়নে কাজ করলেও সেটার দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ হার বর্তমানে ১৩ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। এসএমই খাতের উন্নয়নে এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।

প্রস্তাবিত শুল্ক আইন প্রসঙ্গে মাতলুব আহমাদ বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে তা সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে দফায় দফায় সভা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ব্যবসায়ীরা যে সাত দফা দাবি করে আসছে তা মেনে নিয়ে ভ্যাটের হার ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।


মন্তব্য