kalerkantho

26th march banner

এনবিআর চেয়ারম্যানকে বিজিএমইএ সভাপতি

অর্থপাচারের প্রমাণ পেলে বন্ড সুবিধা বাতিল করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অর্থপাচারের প্রমাণ পেলে বন্ড সুবিধা বাতিল করুন

পোশাক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ নেতারা

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে ঢালাওভাবে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি একটি পত্রিকায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন, পোশাক খাতের মালিকরা পণ্য রপ্তানি করে আয় দেশে না এনে বিদেশে রাখছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির এমন মন্তব্য আমাদের পীড়া দেয়। ’

গতকাল মঙ্গলবার পোশাক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির, এস এম মান্নান কচি ও বিজিএমইএর পরিচালকরা।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, ‘দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত নিয়ে এমন ঢালাও মন্তব্য না করে যারা অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য আমরা সরকারকে বহুবার অনুরোধ করেছি। ’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ী অন্যায় করলে তার বন্ড লাইসেন্স বাতিল করতে পারে এনবিআর। সরকারের কাস্টম আর এনবিআর এখানে কী করছে এটাও আমরা জানার প্রয়োজন বোধ করছি। ’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাব আমাদের পোশাক খাতে পড়তে শুরু করেছে। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের রপ্তানি আয় কমেছে ৯.১১ শতাংশ। ফলে এই মুহূর্তে পোশাকশিল্পকেও স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ইউরোর দরপতন, ব্রেক্সিট এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের কারণে আমাদের পণ্যের মূল্যপতন হয়েছে। এ ছাড়া গত দুই বছরে গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা হারাচ্ছে। ’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘সর্বশেষ চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে ৩.৫৩ শতাংশ। এ ছাড়া প্রবৃদ্ধি কমেছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রাজিলে। অথচ ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আমাদের ১২.২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। ’

রুগ্ণ পোশাক কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘পোশাকশিল্পের জন্য ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কাছাকাছি একটি করে শিল্প পল্লী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৈরি করে দেওয়া হোক। ’

তা ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর অদূরে বাউশিয়া পোশাকপল্লীর জন্য যে জমি দেওয়া হয়েছিল এটি পোশাকপল্লীর জন্য উপযুক্ত নয় বলেও জানান সিদ্দিকুর রহমান। আর এটা সম্ভব না হলে দুর্বল কারখানাগুলোর জন্য অল্প করে হলেও ঢাকার আশপাশে সরকারের খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি। এতে কারখানাগুলো রুগ্ণ হওয়া থেকে রক্ষা পাবে, একই সঙ্গে  ব্যাংকগুলোও আসন্ন সংকট থেকে মুক্তি পাবে।

এক প্রশ্নের জবারে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আশুলিয়ার ঘটনায় কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়নি। এ সময় কিছু শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের আইন অনুসারে পাওনা  বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ’

ওই সময় দুই হাজার ৬০০ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে এমন তথ্য ভুল ব্যাখ্যা করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিক নেতারা ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এত দিন আমরা আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি এক হাজার ৫০০ শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। আর আজ শ্রমিক নেতাদের দাবি দুই হাজার ৬০০ শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় তারা ভুল তথ্য দিচ্ছে। এটা উচিত নয়। ’

আর ওই সময় শ্রমিকদের কর্মবিরতি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ছিল উল্লেখ করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এর ফলে সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। ’

আর শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে ক্রেতাদের সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া ঠিক হয়নি উল্লেখ করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বায়াররা আমাদের অংশীদার, তাদের কোনো আবেদন থাকলে সেটা আমাদেরই প্রথম জানানো উচিত ছিল। এটা না করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত জানানো মোটেই ঠিক হয়নি। ’


মন্তব্য