kalerkantho


পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ লেনদেন পুঁজিবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ লেনদেন পুঁজিবাজারে

গত বছরে পুঁজিবাজারের শুরুটা ভালো যায়নি। তবে শেষ দিকে (ডিসেম্বরে) বাজারে ফিরেছে ‘চমক’। সেই চমকের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারের লেনদেন গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ হয়। ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পর নানামুখী ও আইনগত সংস্কারের পর ‘ঊর্ধ্বমুখী’ পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, পুঁজিবাজারে নানামুখী সংস্কার সাধিত হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারী ‘আস্থাহীনতা’ থেকে বেরিয়ে এসে সক্রিয় হয়েছে। নতুন কম্পানির তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে শেয়ারের জোগান বেড়েছে। আর নতুন নতুন বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে বাজার মূলধনও বাড়ছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। আর মূল্যসূচকও গত সাড়ে ২৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। ডিএসইতে এক হাজার ৬৯৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। ২০১১ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ লেনদেন। মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আগের দিন গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৪৫০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৩২৬ কম্পানির মধ্যে ৬৬.৮৭ শতাংশ কম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে আর ২৩.০১ শতাংশ কম্পানির দাম কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকেই মূল্যসূচকে উত্থান ঘটে। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ২৭৭ পয়েন্ট। ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবরের মধ্যে মূল্যসূচক সর্বোচ্চ। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮৯৪ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ২৪০ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২১৮টির, কমেছে ৭৫টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ কম্পানির শেয়ার দাম।

সূত্র জানায়, গত বছরে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় ঘনিয়ে আসায় বাজারের সূচক ধারাবাহিকভাবেই কম ছিল। অব্যাহতভাবে মূল্যসূচক হ্রাস ও লেনদেন কমায় ‘আস্থাহীনতায়’ বিনিয়োগকারীরাও দূরে সরছিল। লেনদেন ও মূল্যসূচকও নেমেছিল তলানিতে। অব্যাহত পতনের মুখে থাকা বাজারকে টেনে তুলতে নানামুখী সংস্কারে ডিসেম্বরেই নতুন গতি ফিরেছে। কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে বেড়েই চলেছে লেনদেন ও মূল্যসূচক। ‘চাঙ্গা’ মেজাজে এগিয়ে চলা বাজারে আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীর। ২০১০ সালের ধসের পর পোর্টফোলিওতে জমে থাকা শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে সক্রিয়ও হয়েছে অনেকেই।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক মনোভাবের পরিবর্তন এসেছে। বাজারে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাজার ঊর্ধ্বমুখিতার অন্যতম উপাদান। স্থিতিশীলতার কারণে দেশের অন্যান্য সূচকে উন্নতির সঙ্গে পুঁজিবাজারেও প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া ব্যাংক সুদের হার কম হওয়ায় বাজারমুখী হচ্ছে বিনিয়োগকারী। ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভি বলেন, বাজারে এখন কোনো ধরনের আস্থার সংকট নেই। বিনিয়োগকারীরা ভালো ভালো শেয়ার কিনছে, বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। ব্যাংকে সুদের পরিমাণ কম হওয়ায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানায়, গত এক বছরে পুঁজিবাজারের মূলধন বেড়েছে ২৫ হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাজার মূলধন বেড়েছে। গত বছরের শুরুতে বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ১৫ হাজার ৮৪৮ কোটি লাখ টাকা। বছর শেষে সেই মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ২৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৮ শতাংশ মূলধন বেড়েছে।   বিদেশি লেনদেনও বেড়েছে। ২০১৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন। তবে ২০১৬ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৭৩৩ মিলিয়ন।

গতকাল লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।   দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা অ্যাপোলো ইস্পাতের লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অন্যান্য শীর্ষ কম্পানি হচ্ছে ইফাদ অটোস, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, ইউনিক হোটেল, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ডেসকো লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস ও ডরিন পাওয়ার।

দাম বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জিবিবি পাওয়ার, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রি, সিমটেক্স, মার্কেন্টাইল ইনস্যুরেন্স, প্রাইমটেক্স, ইসলামী ইনস্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্স, ফারইস্ট নিটিং ও ইভিন্স টেক্সটাইল।

অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে রছে ইমাম বাটন, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স, ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, জিলবাংলা সুগার, উসমানিয়া গ্লাস, রংপুর ফাউন্ড্রি, মেঘনা পিইটি, পেনিনসুলা চিটাগাং, কনফিডেন্ট সিমেন্ট ও অ্যাম্বি ফার্মা।


মন্তব্য