kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলা আবার চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলা আবার চালু

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ শেষে আবারও চালু হচ্ছে ১৯৯৬ সালে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলা। এই মামলার চার আসামির মধ্যে দুজনের বিচারকাজ চলবে, অন্য দুই আসামির বিচারকাজে স্থগিতাদেশ রয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। গতকাল সোমবার পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর আলী শেখ এই সময় নির্ধারণ করেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল উচ্চ আদালত এই মামলার বিচারকাজে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন। তবে স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার পর আবারও চালু হচ্ছে মামলার কার্যক্রম।

প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলার আসামিরা হলেন এম এ রউফ চৌধুরী, সাঈদ এইচ চৌধুরী, প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের তত্কালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান ও পরিচালক অনু জাগীরদার। রবিবার এই মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য আসামি এম এ রউফ চৌধুরীর আইনজীবী শেখ বাহারুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম খান ট্রাইব্যুন্যালে আবেদন করেন। আরেক আসামি সাঈদ এইচ চৌধুরীর আইনজীবী বোরহান উদ্দিন প্রস্তাব সমর্থন করেন। অন্য দুই আসামি মশিউর রহমান ও আনু জাগীরদার মামলার কার্যক্রমে বর্ধিত স্থগিতাদেশের কপি ট্রাইব্যুন্যালে উপস্থাপন করেন। এই স্থগিতাদেশ ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২ মে পর্যন্ত।

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলায় বিচারকাজ শুরু হবে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে মশিউর রহমান ও আনু জাগীরদারের বিচারকাজ বন্ধ থাকবে। স্থগিতাদেশ শেষ হলে তাদের বিচারকাজও শুরু হবে। ’

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের নামে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে কম্পানির শেয়ার লেনদেন করার অভিযোগ ওঠে। মিতা টেক্সটাইল, প্রাইম টেক্সটাইল, বাটা শুজ ও বেক্সিমকো ফার্মার ১২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লেনদেন করে। এতে শুধু ফরেন ডেলিভারি ভার্সেস পেমেন্টের (ডিভিপি) মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে। এ সময় এক নম্বর আসামি প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ ওই সময়ে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩টি শেয়ার বিক্রি করে, যার মূল্য ছিল ৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। স্টক এক্সচেঞ্জের রেকর্ড অনুযায়ী আসামিরা এসিআই লিমিটেডের এক লাখ ৬৪ হাজার ৮১৯টি শেয়ার বিক্রি করেন। অথচ ব্যাংক রেকর্ডে দেখা যায়, বিক্রির পরিমাণ দুই লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৮টি। যার মধ্যে ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ারের পরিমাণ আট কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ডিভিপি ছাড়াও আসামিরা স্থানীয়ভাবেও শেয়ারের অন্যতম ক্রেতা-বিক্রেতা। তাঁরা ওই সময়ে বেক্সিমকো ফার্মার ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫টি শেয়ার বিক্রি করেন। এর মধ্যে ডিভিপির মাধ্যমে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০টি শেয়ার বিক্রি করেন। আর এখানেও অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ার এক লাখ এক হাজার ৫০০টি। এসব ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ইন্দোসুয়েজ ব্যাংক ব্যবহার করত।

আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি, অপকার ও অনিষ্ট করেছে আখ্যা দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর ২১ ধারায় তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের ১৭ ধারার ই(২) বিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

মার্ক শেয়ার কেলেঙ্কারির বিচারে আসামি অনুপস্থিত, সময় বৃদ্ধি : মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানির শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার বিচারে চার্জ গঠনের দিন আসামিরা অনুপস্থিত থাকায় সময় বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সোমবার চার্জ গঠনের সময় নির্ধারিত থাকলেও কোনো আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার্জ গঠনের সময় বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর আলী শেখ এই সময় বৃদ্ধির আদেশ দেন।

সালমান এফ রহমানের দুই মামলা বাতিল : ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় সালমান এফ রহমানের নামে দায়ের করা দুই মামলা বাতিলের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২ জানুয়ারি মামলা বাতিল (কোয়াশড) করতে নির্দেশনা পেয়েছে পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

১৯৯৬ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে সালমান এফ রহমানের নামে করা দুটি মামলা ২০১৫ সালে শেয়ারবাজার বিষয়ক ট্রাইব্যুন্যালে স্থানান্তরিত হয়। ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হলেও হাইকোর্টের আদেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, উচ্চ আদালত সালমান এফ রহমানের দুই মামলায় কার্যক্রম বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশের পর মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুন্যালের এখতিয়ার নেই। আপিল বিভাগে আবেদন করলে এ মামলা চালু হতে পারে।

 


মন্তব্য