kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অনলাইনভিত্তিক সেবাই এখন বড় ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অনলাইনভিত্তিক সেবাই এখন বড় ব্যবসা

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তথ্য-প্রযুক্তি মেলায় পণ্য দেখছে ক্রেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কেউ এসেছে শিক্ষকের সঙ্গে। আবার কেউ এসেছে বাবা বা মায়ের হাত ধরে।

স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের অনেক বড় সারি। শিশু থেকে কিশোর-কিশোরী, সঙ্গে মধ্যবয়স্কা শিক্ষক-শিক্ষিকা। বয়সের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এ যেন অন্য রকম এক মিলনমেলা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার পেয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তথ্য ও প্রযুক্তি উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড। রাজধানীর কুড়িলসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের তথ্য-প্রযুক্তির ওই মেলা। মেলার দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে প্রযুক্তির উদ্ভাবনী জ্ঞান আহরণে।

দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া পরীক্ষার্থী আফরোজা আক্তার বলে, ‘তথ্য-প্রযুক্তি এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি উপকরণে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের পাঠ্যসূচিতে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয় পড়ানো হয়। তাই এই মেলায় এসে তথ্য-প্রযুক্তির নতুন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। ’

গুলশানের একাডেমিয়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, মানারত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরার ওয়াইড ভিশন স্কুল, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও তেজগাঁও সরকারি হাই স্কুলসহ রাজধানীর প্রায় ২০টির মতো স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এসেছিল ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে। এভাবে সারি ধরে দাঁড়িয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন, পরে ‘দর্শনার্থী’ লেখা একটি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে দলে দলে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬’ তে প্রবেশ করেন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। সর্বাধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সম্পর্কে জানতে এবং এর সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আগ্রহ নিয়ে ছুটে এসেছেন তাঁরা। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন, পাসপোর্টের আবেদন, টুকিটাকি কেনাকাটাসহ দরকারি কিছু কাজ অনলাইনে করা যায় কি না সেই খোঁজ নিতে ওই মেলায় আসেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার মেলায় গিয়ে দেখা যায়, আইসিসিবির ১ নম্বর হলে চলছে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার। ২ নম্বর হল ঘুরে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা তাদের অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দিতে নানা ধরনের ব্রুশিয়ার ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করতে দেখা যায়। এর পাশাপাশি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার মনিটরের মাধ্যমে তাঁদের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ সম্পর্কে ধারণাও দিচ্ছে সংস্থাগুলো।

হল নম্বর ৩-এ চলছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনলাইনভিত্তিক তথ্য ও পণ্য সেবার প্রদর্শনী। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রদর্শন করছে অনলাইনে ডাক্তারদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্ট করার ওয়েবসাইট, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রদর্শন করছে ঘরে বসে অনলাইনে মোবাইল ফোনের ব্যালান্স রিচার্জ করার প্রযুক্তি। ইস্টার্ন ব্যাংক প্রদর্শন করছে মোবাইল অ্যাপ ও ই-পেমেন্ট গেটওয়ে। জনতা ব্যাংক দেখাচ্ছে কিভাবে অনলাইনে কৃষিঋণের আবেদন করা যায়।

সন্ধানডটকম প্রদর্শন করছে নিকটস্থ রেস্টুরেন্ট, ডাক্তার, দর্জি, প্লাম্বার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির মিস্ত্রির নাম ও ঠিকানাসহ একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ। শাদমার্ট প্রদর্শন করছে চীনা পণ্যের অনলাইন একটি মার্কেট, যেখানে ৮ কোটিরও বেশি ধরনের পণ্য রয়েছে। পর্যটকডটকমডটবিডির রিলেশনশিপ ম্যানেজার হাবিব হাসান সোহেল বলেন, ‘দেশের মধ্যে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্রয়োজন হলে থাকার জন্য হোটেল বুকিং দেওয়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের টিকিট কেনার জন্য ৩৬৫টিকেটডটকম নামে আমাদের একটি ওয়েবসাইট আছে। এমন ওয়েবসাইট আমরাই প্রথম নিয়ে এসেছি। ’

ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপসের পাশাপাশি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ও আমদানিকৃত প্রযুক্তি পণ্যও প্রদর্শন করছে এই মেলায়। এর মধ্যে টেলিফোন শিল্প সংস্থার সঙ্গে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান ওকে মোবাইল দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ও ট্যাব প্রদর্শন করছে। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হলেও আইসিসিবিতে এবারই প্রথম এই তথ্য-প্রযুক্তি মহোৎসব আয়োজিত হচ্ছে। এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ৫০টি স্টার্টআপ কম্পানি অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৪০০ প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে।

সফটওয়্যার শোকেসিং ছাড়াও ই-গভর্ন্যান্স, মোবাইল ইনোভেশন অ্যান্ড গেইমিং, ই-কমার্স নিয়ে তিনটি স্বতন্ত্র মেলা চলছে। উদ্যোক্তাদের জন্য আছে স্টার্টআপ জোন। থাকছে ই-গভর্ন্যান্স, ই-হেলথ, ই-এডুকেশন, ই-কমার্স, এম-কমার্স, অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স, উইমেন ইন আইটি, মোবাইল অ্যাপস ও গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া, সাইবার সিকিউরিটি, এক্সপোর্ট মার্কেট গ্রোথ, লোকাল মার্কেটসহ তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক বেশ কয়েকটি সেমিনার।

মাইক্রোসফট, ফেসবুক, একসেন্সার, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন বিদেশি বক্তাসহ দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি সেশনে অংশ নিচ্ছেন।

‘ননস্টপ বাংলাদেশ’ স্লোগানে শুরু এই উৎসবের মূল আয়োজক তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ। সহযোগী হিসেবে আছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামসহ (এটুআই) বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি সংগঠন ও সংস্থা। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে মেলা। আজ শুক্রবার পর্দা নামবে এই মেলার।


মন্তব্য