kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানি কনটেইনার

ওজন সনদ নিতে মাসুল এক হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ওজন সনদ নিতে মাসুল এক হাজার টাকা

রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজে তোলার আগে ‘ওজন যাচাই সনদ’ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ওজন সনদ দিলেও এত দিন মাসুল ঠিক করেনি।

নিয়ম কার্যকরের সাড়ে তিন মাস পর গতকাল বুধবার মাসুল ঠিক করল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।

ঢাকায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন মাসুল নির্ধারণ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতি বক্স (২০ ফুট ও ৪০ ফুট) রপ্তানি কনটেইনার ওজন করতে মাসুল দিতে হবে এক হাজার টাকা। এই মাসুল কনটেইনার ডিপোগুলোকে পরিশোধ করবে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান। তবে এই মাসুল আজ বৃহস্পতিবার নাকি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে সেটি নিশ্চিত হতে মন্ত্রণালয়ের আদেশ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বৈঠক থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতি বক্স রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ওজন করে সনদ নিতে এক হাজার টাকা মাসুল দিতে হবে। রপ্তানিকারকরা এই মাসুল পরিশোধ করবেন। বৃহস্পতিবার থেকেই এই মাসুল কার্যকর হবে। ’

বৈঠকে বন্দর ব্যবহারকারী বিজিএমইএ, চট্টগ্রাম চেম্বার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বন্দর ও মংলা বন্দরের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন বিকডা’র সচিব রুহুল আমিন সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১ জুলাই থেকে আমরা সনদ দিচ্ছি। সুতরাং সেই তারিখ থেকেই সেটি কার্যকর হবে। বিগত সময়ের মাসুল আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিল দিয়ে আদায় করব। ’

উল্লেখ্য, ঘোষণার চেয়ে বেশি পণ্য জাহাজিকরণের ফলে নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটায় পণ্য পরিবহনে ২০১৪ সালে সেইফটি অব লাইফ অ্যাট সি বা সোলাস কনভেনশন বাধ্যতামূলক করে আইএমও। সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১ জুলাই থেকে ওজন যাচাই সনদ দিয়ে পণ্য পরিবহন বাধ্যতামূলক করেছে আইএমও। ওজন যাচাই সনদ দিতে চারটি কাজের জন্য কনটেইনার ডিপো মালিকরা প্রতিটি বক্সের বিপরীতে এক হাজার ৫০০ টাকা মাসুল নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল। গতকালের সভায় নতুন মাসুল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। জানা গেছে, বিগত ২০১৫ সালে ১৬টি কনটেইনার ডিপো চার লাখ ৮০ হাজার বক্স রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছি। আর ইপিজেডগুলো করেছে ৫৩ হাজার বক্স। ফলে ইপিজেডগুলোর রপ্তানি কনটেইনার ওজন সনদ কিভাবে নেবে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা আসেনি। তবে সরকারি লিখিত আদেশ আসার পর তা জানা যাবে।


মন্তব্য