kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলা

দ্বিতীয় দফায় স্থগিতাদেশ আনতে সময় আবেদন

রফিকুল ইসলাম   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় দফায় স্থগিতাদেশ আনতে সময় আবেদন

পুঁজিবাজারের শেয়ার কেলেঙ্কারি ও জালিয়াতি-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মামলার খরা কাটছেই না। ২৪টি মামলার মধ্যে ১৬টিই রয়েছে স্থগিত।

রায় হয়েছে মাত্র ছয়টির। গত ১৬ অক্টোবর ১৯৯৬ সালে শেয়ার কারসাজিতে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলা স্থগিতাদেশের সময় শেষ হয়। আবারও এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ আনতে সময় চেয়েছে আসামিপক্ষ। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ নভেম্বর স্থগিতাদেশ জমা দেওয়ার সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

সূত্র জানায়, ১৬ অক্টোবর প্রথম দফায় উচ্চ আদালতের ছয় মাসের স্থগিতাদেশ শেষ হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল বিচারকার্য পরিচালনায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। আদালতে স্থগিতাদেশ শেষ হলে সোমবার মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা তালিকায় রাখা হয়। এজলাসও বসেছিল। মামলায় আবারও স্থগিতাদেশ আনতে উচ্চ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে—এমন তথ্য জানিয়ে আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় প্রার্থনা করলে বিচারক সময় মঞ্জুর করেন।

পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত পাঁচ শতাধিক মামলার মধ্যে ২৪ মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। বাকি মামলাগুলো এখনো নানা আদালতে বিচারাধীন। ক্রমান্বয়ে মামলাগুলো স্থানান্তর করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

একের পর এক মামলায় স্থগিতাদেশে মামলা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। এর আগেও ১৯৯৬ সালের চিটাগাং সিমেন্টের শেয়ার কারসাজির মামলার রায় ঘোষণার আগে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আসামিপক্ষের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর উচ্চ আদালত প্রথম দফায় মামলার কার্যক্রমে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ শেষ হলে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলা কার্যতালিকায় রাখা হলেও ৮ সেপ্টেম্বর আবারও মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন আদালত।

১৯৯২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শেয়ার কারসাজি-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে ২০১৫ সালের ২১ জুন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। ২৪টি মামলার মধ্যে ছয়টির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলেও অন্যগুলো স্থগিত থাকায় মামলা সংকটে রয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপ্রক্রিয়ার সব উপকরণ থাকলেও মামলা না থাকায় ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম চলছে না।

প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের নামে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে কয়েকটি কম্পানির শেয়ার লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। মিতা টেক্সটাইল, প্রাইম টেক্সটাইল, বাটা শুজ ও বেক্সিমকো ফার্মার ১২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লেনদেন করে। এই লেনদেনের ফরেন ডেলিভারি ভার্সেস পেমেন্টের (ডিভিপি) মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা লেনদেন করে। স্টক এক্সচেঞ্জের রেকর্ড মোতাবেক আসামিরা এসিআই লিমিটেডের এক লাখ ৬৪ হাজার ৮১৯টি শেয়ার বিক্রি করে। অথচ ব্যাংক রেকর্ডে দেখা গেছে, শেয়ার বিক্রির পরিমাণ দুই লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৮টি। ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ছিল আট কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আসামিরা বিনিয়োগকারী ও কম্পানির সঙ্গে প্রতারণামূলকভাবে এটি করেছে।

জানা যায়, এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে শেয়ারের অন্যতম ক্রেতা-বিক্রেতা ছিল। আসামিরা ওই সময়ে বেক্সিমকো ফার্মার ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫টি শেয়ার বিক্রি করে। যার ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০টি শেয়ার ডিভিপির মাধ্যমে বিক্রি করে। আর এখানেও অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ার ছিল এক লাখ এক হাজার ৫০০টি। ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ইন্দোসুয়েজ ব্যাংক ব্যবহার করত।

আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি, অপকার ও অনিষ্ট করেছে—এমন অভিযোগে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর ২১ ধারাবলে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিটি ঘটনাপ্রবাহ যাচাই-বাছাই শেষে ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদনে সিকিউরিটিজ অধ্যাদেশের ১৭ ধারার ই(২) বিধান লঙ্ঘন করেছে বলে উল্লেখ করে অধ্যাদেশের ২৪ ধারার অধীনে আসামিদের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এ মামলার বাদী বিএসইসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক এম এ রশিদ খান। আসামিরা হলেন এম এ রউফ চৌধুরী, প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের এমডি মশিউর রহমান, পরিচালক সৈয়দ এইচ চৌধুরী ও অনু জাগিরদার।

বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, ‘সোমবার মামলাটির বিচারকার্যের সময় নির্ধারিত থাকলেও উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ আনতে সময় আবেদন করে। স্থগিতাদেশের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে সময় দিয়েছেন আদালত। আগামী ২১ নভেম্বরের মধ্যে স্থগিতাদেশ জমা দিতে হবে। ’


মন্তব্য