kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৫ প্রদান করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ছবি : কালের কণ্ঠ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ফলে আজ আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এখন এই অর্থের সদ্ব্যবহারের সময় এসেছে।

তাই আমরা ভাবছি এটিকে কিভাবে বিনিয়োগে নিয়ে আসা যায়। আমরা চিন্তা করছি, আপনাদের কাছ থেকে ঋণ নেব। আপনাদের টাকা আপনাদেরই থাকবে। আমরা শুধু আপনাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ বা মুনাফা যাই হোক, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ঋণ নেব। সেই অর্থ দেশের উন্নয়নে মেগা প্রকল্পে ব্যবহার করব। এসব প্রকল্পের সাফল্য বা ব্যর্থতার বিষয়ে দায়-দায়িত্ব আমাদের। আপনাদের টাকার কোনো ক্ষতি হবে না। যে অর্থ ঋণ নেওয়া হবে তার লভ্যাংশও আপনাদের দেওয়া হবে। এ বছর থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হবে কি না বলা যাচ্ছে না। তবে আগামী বছর থেকে সুনিশ্চিতভাবে তা ব্যবহার করা হবে। আর বাজেটেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকবে। ’

গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ হলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে ৩১ জন প্রবাসী ও চারটি একচেঞ্জ হাউসকে রেমিট্যান্স আহরণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, একটি দেশে প্রবাসীদের পাঠানো টাকার পরিমাণ যখন বেড়ে যায় তখন দেশের মানুষের, জাতির আস্থাও বেড়ে যায়। আমরা জোরেশোরে চিন্তা করছি তাদের পাঠানো টাকা থেকে ধার নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করব। তবে কোথায়, কিভাবে ব্যয় করা হবে তা আগামী বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিমানে ও ইমিগ্রেশনে বেশ হেনস্থার শিকার হয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের লোকজনদের দেশের প্রতি টান একটু বেশি। কারণ তারা বাংলাদেশ বিমানে বারবার হেনস্থা হলেও সেটাতে ওঠে। কাস্টমস ইমিগ্রেশন তাদের ওপর অত্যাচার করত। তার পরও তারা কিছু বলত না। তবে বর্তমানে এটি কিছুটা কমেছে। কারণ ধীরে ধীরে বাংলাদেশে ব্যুরোক্রেসির সদস্যদের চারিত্রিক পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আগে তাদের প্রশিক্ষিত করে পাঠানোর বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৩ শতাংশ অর্জিত হবে বলেও জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, হুন্ডি বা অন্যান্য পন্থায় টাকা পাঠালে তা দেশের ক্ষতি। এটি কালো টাকা। এগুলো জঙ্গি অর্থায়ন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চোরাকারবারিসহ নানা ধরনের অসৎ কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই প্রবাসীদের হুন্ডির মাধ্যমে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

সম্মাননা পাওয়া প্রবাসীরা তাদের বক্তব্যে বেশ কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রীর কাছে। এর মধ্যে প্রবাসীদের বিনিয়োগ করা অর্থের সুরক্ষা দিতে বিশেষ পুঁজিরক্ষা আইন করা, ডলারের ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যকার ব্যবধান কমানো, প্রবাসীদের উত্পাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও বিপণনের জন্য একটি আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি, ডলারের পরিবর্তে টাকা বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়াসহ বেশ কিছু দাবি জানান প্রবাসীরা।

অনুষ্ঠানে ২৬ জন রেমিট্যান্স প্রেরক, পাঁচজন বন্ডে বিনিয়োগকারী এবং চারটি এক্সচেঞ্জ হাউসকে সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠানোয় যাঁদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে তাঁরা হলেন জাকির হোসেন, মো. শফিক, ওয়ালিউর রহমান, খান মো মুহিবুল বারী, সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান, আক্তার হোসেন, মো. সেলিম, জাকির হোসেন চৌধুরী, এস এম পারভেজ তমাল, আবু মো. জাকারিয়া, রায়হান আলাউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, সেলিম মিয়া, শহীদ হোসেন জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ ইসমাইল, নওশাদ আহমেদ, জেড ইউ সাঈদ, দেওয়ান সাদেক আফজাল, ইকবাল হোসেন, নাজমুল হুদা, আলী রেজা, মুর্শিদুজ্জামান, মো. আজম, আবদুল ওয়াহাব ও শাহবুদ্দিন। বন্ডে বিনিয়োগ করায় যাঁদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন মাহতাবুর রহমান, ওমর ফারুক, আশিফ এ চৌধুরী, মোছা. জেসমিন আক্তার, আরিফ এ চৌধুরী এবং অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো হলো প্যাসিড এনকে করপোরেশন, ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ কম্পানি, এনইসি মানি ট্রান্সফার এবং কেএমবি ইন্টা. মানি ট্রান্সফার।

 


মন্তব্য